কলকাতা — বঙ্গ বিধানসভা ভোটের আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আবারও সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈনকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। একইসঙ্গে হুগলির বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষকেও হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই দু’জনকে ইডির দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি এই মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল ইডি।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে এর আগে কুন্তল ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। পরে একই মামলায় ইডির হাতেও গ্রেপ্তার হতে হয় তাঁকে। যদিও বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে দাবি, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে এসেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই কুন্তল ঘোষকে আবার জেরা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই মামলাতেই প্রাক্তন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তে সিবিআই একাধিকবার তাঁকে তলব করেছিল। সেই সময় তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হয়ে জেরার মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে মানিক ভট্টাচার্য, রত্না বাগচি এবং বিভাস অধিকারীকেও নোটিস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই সিবিআই চার্জশিট জমা দিয়েছে। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এই তিনজনকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিন আদালতে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় হাজিরা দেননি। অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে তাঁর আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছেন। তবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ জুন ইডি এবং সিবিআইয়ের মামলার একসঙ্গে শুনানি হবে। সেই শুনানির দিকেই এখন নজর রয়েছে রাজনৈতিক এবং আইন মহলের।
