27 C
Kolkata
February 4, 2026
দেশ

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় সুস্থ ভিত্তি ও সংস্কারের জোর, দাবি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের অর্থনৈতিক সমীক্ষা দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সুস্থ ভিত ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে জোরালো সংস্কারের প্রতিফলন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। গত এক দশকে কেন্দ্রের নেওয়া ধারাবাহিক সংস্কারের ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে তাঁর মন্তব্য। তিনি জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির মোট অনাদায়ী সম্পদের হার নেমে এসেছে বহু দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ২.২ শতাংশে, যা আগের আর্থিক চাপের অধ্যায় থেকে স্পষ্ট বিচ্ছেদ নির্দেশ করে।

আদায়ের দক্ষতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে যেখানে অনাদায়ী ঋণ আদায়ের হার ছিল ১৩.২ শতাংশ, তা বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে হয়েছে ২৬.২ শতাংশ। একই সঙ্গে মুনাফার হার বৃদ্ধি পেয়েছে, কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১৬.৯ শতাংশ এবং সম্পদের উপর রিটার্ন স্থিতিশীল ও স্বাস্থ্যকর স্তরে রয়েছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ।গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলিও সংহতি ও প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাঙ্কগুলির সম্মিলিত নিট মুনাফা রেকর্ড ৭,৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাদের অনাদায়ী সম্পদের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ৫.৪ শতাংশে।অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের সুপরিকল্পিত আর্থিক কৌশল—যার কেন্দ্রে রয়েছে ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ, স্থিতিশীল রাজস্ব সংগ্রহ এবং মূলধনী ব্যয়ে জোর—মহামারির পরবর্তী সময়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৃদ্ধিকে শক্তিশালী করেছে।

চলতি ২০২৬ অর্থবর্ষে রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা ৪.৪ শতাংশে রাখার পথে সরকার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই আর্থিক শৃঙ্খলার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি অর্থবর্ষে তিনটি সার্বভৌম রেটিং আপগ্রেড হয়েছে।২০২১-২২ অর্থবর্ষের পর থেকে মূলধনী ব্যয় প্রায় ৮৯ শতাংশ বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বাজেটে নির্ধারিত হয়েছে ১১.২১ লক্ষ কোটি টাকা। জিডিপির তুলনায় কার্যকর ক্যাপেক্স মহামারির আগে গড়ে যেখানে ছিল ২.৭ শতাংশ, তা বেড়ে হয়েছে ৩.৯ শতাংশ। অর্থমন্ত্রীর কথায়, এই বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ অর্থনীতির রক্তনালির মতো কাজ করবে।জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্ক প্রায় ৬০ শতাংশ সম্প্রসারিত হয়ে ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষের ৯১,২৮৭ কিলোমিটার থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দাঁড়িয়েছে ১.৪৬ লক্ষ কিলোমিটারে।

একই সঙ্গে উচ্চগতির করিডরের দৈর্ঘ্য প্রায় দশগুণ বেড়ে ৫,৩৬৪ কিলোমিটারে পৌঁছেছে, ফলে পণ্য পরিবহণে বাধা কমেছে। রেলপথে ক্ষমতা বৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হয়েছে এবং বন্দর পরিকাঠামোয় পণ্য পরিবহণ বেড়ে হয়েছে ১,৬০২ মিলিয়ন মেট্রিক টন। অভ্যন্তরীণ নৌপথে পরিবহণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় রূপান্তর দেখা যাচ্ছে, যেখানে ২০১৩-১৪ সালের ১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন থেকে ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৪৬ মিলিয়ন মেট্রিক টন।অর্থনৈতিক সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, শহরের সাফল্য শুধু পরিকাঠামোর উপর নয়, আস্থা, পূর্বানুমেয়তা ও নাগরিক সহযোগিতার উপরও নির্ভর করে। স্পষ্ট নিয়ম, নির্ভরযোগ্য পরিষেবা এবং জনপরিসরের মর্যাদা বজায় থাকলে টেকসই বৃদ্ধি সম্ভব।

সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতের মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস সবচেয়ে বেশি, যেখানে এপ্রিল-ডিসেম্বর সময়কালে গড় মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ১.৭ শতাংশে, মূলত খাদ্যপণ্যের দামের পতনের ফলে।

Related posts

Leave a Comment