শ্রীনগর, ৩ এপ্রিল: শুক্রবার রাত ৯.৪২ মিনিটে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প কেঁপে ওঠে জম্মু ও কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকা। ভয়ে মানুষ ঘর ছেড়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। কাশ্মীর উপত্যকায় আতঙ্ক বিরাজ করলেও জম্মু অঞ্চলেও কম-বেশি কম্পন অনুভূতি হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সরকারি কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলা এবং প্রত্যন্ত এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটি আফগানিস্তান-তাজিকিস্তান সীমান্ত এলাকায় হয়েছিল এবং এর কেন্দ্রস্থল পৃথিবীর ১৫০ কিলোমিটার গভীরে ছিল। এর স্থানাংক ছিল অক্ষাংশ ৩৬.২৯ ডিগ্রি উত্তর ও দ্রাঘিমাংশ ৭০.৮৭ ডিগ্রি পূর্ব।
কাশ্মীর উপত্যকা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। অতীতে বহু প্রবল ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২০০৫ সালের ৮ অক্টোবরের ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। পাকিস্তান দখলকৃত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদ শহর ধ্বংস হয়।
এছাড়া উত্তর ভারতের দিল্লি-এনসিআর, নয়ডা, গুরগাঁও, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে। বাসিন্দারা জানিয়েছে, হঠাৎ বসা বা ঘুমানোর সময় ঘর কেঁপে উঠেছে, ফার্নিচার ও ঝুলন্ত সামগ্রীও দুলে উঠেছে। মানুষ নিরাপত্তার কারণে বাইরে বেরিয়ে খোলা জায়গায় একত্র হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিয়েছে, নাগরিকরা শান্ত থাকুন এবং পরবর্তী কম্পনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলুন। যদিও ভূমিকম্পপ্রবণ উত্তর ভারতের জন্য এটি সাধারণ ঘটনা। কারণ অঞ্চলটি হিমালয় ভূমিকম্প বেল্টের কাছে অবস্থিত।
