ডেবরার ধামতোড় বিল্লেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয় ছবির মতো সুন্দর! রাজ্যের আরও পাঁচটা স্কুলের মতো এটিও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু তাঁর চৌহদ্দিতে প্রবেশ করলেই মন ভালো হয়ে যায়। স্কুলের প্রতি কেমন যেন একটা ভালো লাগা তৈরি হয়। এই স্কুলটিকে শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীরা হাতে হাত মিলিয়ে সাজিয়ে তুলেছেন। স্কুলজুড়ে রকমারি ফুল ও সবজির চাষ করেছে পড়ুয়ারা। জেলার এরকমই একটি মন ভালো করা সরকারি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে মুগ্ধ হয়ে গেলেন স্বয়ং জেলা শাসক এবং জেলার অন্যান্য শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকরা। একটি স্কুলকে যে এমন ছবির মতো সুন্দরভাবে সাজিয়ে তোলা যায়, তা তাঁদের চিন্তার বাইরে ছিল। তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে রীতিমতো প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, টিচার ইন চার্জ মিসবাউল হকের উদ্যোগে স্কুলটিকে বিভিন্ন বাহারি ফুল ও সব্জির বাগানে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের প্রকৃতি প্রেমে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সম্পর্কেও সচেতনতার পাঠ দেওয়া হয়েছে। এভাবে ছাত্র-ছাত্রীরাও স্কুলকে ভালোবেসে ফেলেছে। এটাই যেন তাদের কল্পনার জগৎ। সেজন্য সহজে তারা স্কুল কামাই করতে চাই না। এমনকি প্রকৃতির প্রেমে পড়ে ছুটির দিনেও তারা চলে আসে স্কুলে। আর সেই স্কুল পরিদর্শনে এসে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের শৈশব ও ছাত্রজীবনের নস্টালজিয়া যেন একঝলক নাড়িয়ে দিয়ে গেল।
তবে স্কুলের এমন মনোরম পরিবেশের মধ্যেও বেশ কিছু মৌলিক পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি কানে আসার পর দীর্ঘদিনের সেইসব সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলেন জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণ। বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো, পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার পলাশ চন্দ্র ঢালি, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান অনিমেষ দে-সহ অন্যান্য জেলা প্রশাসনিক আধিকারিকরা। জেলাশাসকের এই সফরের পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরাও বেজায় খুশি। তাঁদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাধিক পরিকাঠামোগত সমস্যা ছিল। শ্রেণিকক্ষের অভাব, পানীয় জলের অসুবিধা, শৌচাগারের অপ্রতুলতা এবং বিদ্যালয় চত্বরের পরিকাঠামোর দুর্বলতা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছিল। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন।
সমস্যার কথা জানার পর জেলাশাসক বিদ্যালয়ে এসে পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন। বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিসবাউল হক জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে চলছিলাম। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার পর জেলাশাসক নিজে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এতে আমরা আশাবাদী।’
অভিভাবকরাও জেলাশাসকের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নত হলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটবে বলেই মনে করছেন সকলে।
