সুমন কুমার রায়, ২ জানুয়ারি,বাঁকুড়া; আজ বাঁকুড়ার দলপুর জ্ঞানানন্দ সরস্বতী আশ্রমে ৪২ জন দুঃস্থ এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের হাতে কম্বল তুলে দিল ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-এর কার্যকর্তা বৃন্দ। গতকাল, ১লা জানুয়ারি ছিল ‘কল্পতরু উৎসব’। সেই উৎসব উপলক্ষে এদিন দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির-এর পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।
ঠাকুর বলেছিলেন – ‘তোমাদের চৈতন্য হোক’। সেই জাগরিত চৈতন্যের দ্বারা সমাজের দুঃস্থ মানুষদের পাশে উষ্ণতার পরশ হয়ে পাশে দাঁড়ালো এই সংগঠন।ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দ-এর চরণে ফুল দিয়ে, তাঁদের আশীর্বাদ নিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আশ্রমের বর্তমান মহারাজ শ্রী মাধবানন্দ সরস্বতী, সমাজসেবী এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের বাঁকুড়া জেলার পূর্ব জেলা সভাপতি অমিত দাস, দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির এর সদস্য ও সমাজসেবী অসীম লাল মুখার্জী; স্থানীয় বাসিন্দা সৈকত গাঙ্গুলী, দেব ঘোষাল এবং নিরঞ্জন ঘোষাল।অসীম লাল মুখার্জী ‘দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির’-এর প্রতিষ্ঠার কারণ এবং তার উদ্দেশ্যে সম্পর্কে উপস্থিত জনতা এবং উপভোক্তাদের অবগত করান।
তারপর ‘কল্পতরু দিবস’ কি এবং কেন – এই নিয়ে একটি সুমধুর বক্তব্য রাখেন অমিত দাস। ঠাকুরের বাণী এবং তাঁর আধ্যাত্মিক চেতনার কথা তুলে ধরেন অমিত। এরপর মাধবানন্দ সরস্বতী মহারাজজীর হাত ধরে কম্বল বিতরণ শুরু হয়। মোট ৪২ জন উপভোক্তার হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে প্রায় সকলেই জনজাতি বা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ । সাথে শিব মন্দিরে দেওয়া পুজোর প্রসাদ হিসাবে মিষ্টিও বিতরণ করা হয় উপস্থিত সকলকে। এই শীতে গরম কম্বল পেয়ে উপভোক্তারা খুব খুশী হয়।উপভোক্তাদের মধ্যে নীলমণি টুডু বলেন, এই শীতে গরম কম্বল পেয়ে আমরা খুব খুশী।
দেশের মাটি কল্যাণ মন্দিরের কার্যকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই আমাদের পাশে থাকার জন্য। মহারাজজী বলেন, দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির-এর এই কার্যক্রম খুব সুন্দর লাগল, এদের কাজের মধ্যে প্রকৃত সেবাভাব আছে। আমরা ভবিষ্যতে আবার এই রকম কার্যক্রমের সাক্ষী থাকতে চাই।দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির-এর উপদেষ্টা ড. কল্যাণ চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির দুঃস্থ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার বার্তা বারবার দিয়েছে। গরীব মানুষকে এই প্রচন্ড শীতে কম্বল বিতরণের মাধ্যমে এই মন্দির আবার তার প্রমাণ দিল। পরম করুণাময় ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ দেব-এঁর আশীর্বাদে কল্পতরু উৎসব সার্থক হয়েছে – এটা জেনে খুব ভালো লাগছে।
দেশের মাটি কল্যাণ মন্দির-এর সম্পাদক মিলন খামারিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা সমাজের সর্বস্তরের জনগণের পাশে আছি। কোনো দুঃস্থ মানুষ যাতে এই শীতে কষ্টে না থাকেন সেই কাজ আমরা করতে চাই। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য সীমিত। জন সাধারণকে আমাদের পাশে থাকার জন্য অনুরোধ করছি, তারাও সমাজের দুঃস্থ মানুষদের সেবায় ব্রতী হোক, তাহলে সমাজের সবাই ভালোভাবে জীবন কাটাতে পারবেন।
