দিল্লি, ১৪ ডিসেম্বর: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল জাতীয় রাজধানী দিল্লি। রবিবার সকাল ৭টায় গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) দাঁড়ায় ৪৬১, যা ‘সিভিয়ার’ বা ভয়াবহ শ্রেণিতে পড়ে। দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চল জুড়ে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (গ্র্যাপ)-৪ কার্যকর থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছে সেন্ট্রাল পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড (সিপিসিবি)।
ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশায় ঘেরা ছিল গাজিপুর, আইটিও এলাকা, আনন্দবিহারসহ একাধিক অঞ্চল। দৃশ্যমানতা ছিল অত্যন্ত কম। সিপিসিবির তথ্য অনুযায়ী, শহরের বহু এলাকাতেই বাতাসের মান ‘সিভিয়ার’ স্তরেই রয়ে গেছে।
সকাল ৭টার পরিমাপে বাওয়ানায় AQI সর্বোচ্চ ৪৯৭ রেকর্ড হয়েছে। নরেলায় ৪৯২ এবং ওখলা ফেজ-২ এলাকায় ৪৭৪ AQI নথিভুক্ত হয়েছে। তুলনায় এনএসআইটি দ্বারকায় AQI ছিল ৪১১, যা শহরের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম হলেও তা এখনও ‘সিভিয়ার’ পর্যায়েই পড়ে।
আনন্দবিহারে বিষাক্ত স্মগের আস্তরণ স্পষ্ট ছিল, সেখানে AQI দাঁড়ায় ৪৯১। অশোকবিহার (৪৯৩), আইটিও (৪৮৩), ডিটিইউ (৪৯৫) এবং নেহরু নগর (৪৭৯)—এই সব এলাকাতেও বাতাসের মান ভয়াবহভাবে নেমে গেছে। নাজাফগড়ে AQI ছিল ৪০৮ এবং শাদিপুরে ৪১১, যা অন্য এলাকার তুলনায় সামান্য কম হলেও ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়েই রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার দিল্লি সরকারের শিক্ষা দপ্তর নির্দেশ দেয়, গ্র্যাপ-৪ জারি হওয়ায় নবম ও একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলগুলি হাইব্রিড পদ্ধতিতে ক্লাস চালাবে। কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট (সিএকিউএম) AQI ‘সিভিয়ার’ সীমার কাছাকাছি পৌঁছনোর পরই এই সিদ্ধান্ত নেয়।
সিপিসিবির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, AQI ০ থেকে ৫০০ পর্যন্ত ধরা হয় এবং ছ’টি ভাগে তা শ্রেণিবদ্ধ। ০–৫০ ‘ভাল’, ৫১–১০০ ‘সন্তোষজনক’, ১০১–২০০ ‘মাঝারি’, ২০১–৩০০ ‘খারাপ’, ৩০১–৪০০ ‘অত্যন্ত খারাপ’ এবং ৪০১–৫০০ ‘সিভিয়ার’ হিসেবে বিবেচিত।
‘ভাল’ ও ‘সন্তোষজনক’ স্তরে সাধারণত বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকলেও সংবেদনশীল মানুষদের অস্বস্তি হতে পারে। ‘মাঝারি’ স্তরে শ্বাসকষ্টের সম্ভাবনা বাড়ে। ‘খারাপ’ ও ‘অত্যন্ত খারাপ’ পর্যায়ে দীর্ঘ সময় থাকলে সুস্থ মানুষেরও শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। ‘সিভিয়ার’ স্তরে বাতাস সকলের জন্যই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে—বর্তমানে দিল্লির অবস্থা ঠিক সেই পর্যায়েই রয়েছে।
