খাদি, হ্যান্ডলুম, কুটির শিল্প ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের সহায়তায় ‘মুখ্যমন্ত্রী স্কিল ডেভেলপমেন্ট স্কিম’ অনুমোদন করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। সম্প্রতি তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে দিল্লি খাদি ও গ্রামোন্নয়ন বোর্ড (DKVIB)। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রথম পর্যায়ে ৩,৭২৮ জন উপভোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যার জন্য ৮.৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদিত হয়েছে। ২০২৬–২৭ সালে বৃহত্তর পরিসরে প্রকল্প সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৫৭.৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব মন্ত্রিসভার সামনে তোলা হবে।প্রথম পর্যায়ে ই-শ্রম পোর্টালে নথিভুক্ত প্রায় ১৮,০০০ দর্জিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ধীরে ধীরে সূচিশিল্পী, পোশাক নির্মাতা, কুমোর, ছুতোর, মুচি, ঝুড়ি ও চাটাই প্রস্তুতকারক, সুগন্ধি প্রস্তুতকারক, বাঁশ শিল্পী, নাপিত, মালা প্রস্তুতকারক, ধোপা, মাছ ধরার জাল প্রস্তুতকারক ও কার্পেট বুননকারীদের মতো অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী পেশাকেও এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।যোগ্যতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। প্রতি পরিবার থেকে মাত্র একজন এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অযোগ্য হবেন। নথিভুক্তির সময় আধার-ভিত্তিক যাচাইকরণ বাধ্যতামূলক।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লির কারিগররা শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। “সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরাসরি বাজার সংযোগ প্রয়োজন। এই প্রকল্প তাঁদের দক্ষতা উন্নত করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন অর্থনীতিতে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে,” মন্তব্য তাঁর।
শিল্পমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সীরসা বলেন, “এটি শুধু দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নয়, হাজার হাজার পরিবারের আত্মনির্ভরতা ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ।”মার্চেন্ডাইজিং, লজিস্টিকস, আইটি অপারেশন ও ফ্যাশন প্রোডাকশনের মতো কোর্সের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ তৈরি হবে, পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী শিল্প আধুনিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।প্রকল্পের আওতায় ১২ দিন (৯৬ ঘণ্টা) প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যার মধ্যে দু’দিনের উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি (EDP) অন্তর্ভুক্ত।
প্রতি ব্যাচে ৩৫ থেকে ৪৫ জন অংশগ্রহণকারী থাকবেন। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে ৪,৮০০ টাকা ভাতা (প্রতিদিন ৪০০ টাকা) এবং খাবারের জন্য প্রতিদিন ১০০ টাকা প্রদান করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফুট-অপারেটেড সেলাই মেশিনসহ প্রয়োজনীয় টুলকিটও দেওয়া হবে।প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ডিজিটাল অনবোর্ডিং।
প্রতিটি কারিগরের প্রোফাইল, ছবি ও পণ্যের বিবরণসহ ই-ক্যাটালগ তৈরি করে তা ওপেন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কমার্স (ONDC) প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হবে, যাতে দেশ-বিদেশের বাজারে তাঁদের পণ্যের দৃশ্যমানতা বাড়ে।এছাড়া ‘রেকগনিশন অব প্রায়র লার্নিং’ (RPL)-এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের দক্ষতার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও দেওয়া হবে।
