কাশ্মীরের শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে নতুন করে দাবি জানাল চিন। বেজিংয়ের বক্তব্য, ওই অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং সেখানে পরিকাঠামো নির্মাণ সম্পূর্ণভাবে “ন্যায্য ও বৈধ”। চিনের এই মন্তব্য ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র বলেন, শাকসগাম উপত্যকা ঐতিহাসিকভাবেই চিনের ভূখণ্ডের অংশ এবং সেখানে রাস্তা ও অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ তাদের সার্বভৌম অধিকারের মধ্যেই পড়ে। তাঁর দাবি, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উন্নয়নমূলক কাজ করা চিনের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত।
উল্লেখ্য, শাকসগাম উপত্যকা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের একটি অংশ, যা ভারত তার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে দাবি করে। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে হওয়া এক চুক্তির মাধ্যমে এই এলাকা কার্যত চিনের নিয়ন্ত্রণে যায়, যদিও ভারত ওই চুক্তিকে অবৈধ বলে মনে করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শাকসগাম উপত্যকায় চিনের পরিকাঠামো নির্মাণ ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে উদ্বেগজনক। এই অঞ্চল লাদাখ ও কারাকোরাম সীমান্তের কাছে অবস্থিত এবং এখানে উন্নত রাস্তা ও লজিস্টিক সুবিধা গড়ে উঠলে চিনের সেনা চলাচল আরও সহজ হতে পারে।
ভারত আগেও স্পষ্ট করেছে যে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তৃতীয় কোনও দেশের সেখানে কোনও দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। কূটনৈতিক সূত্রের ইঙ্গিত, চিনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে ভারত সরকার উপযুক্ত সময়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, সীমান্ত এলাকায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপর আবারও জোর দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।
