24 C
Kolkata
March 22, 2026
দেশ

৩০ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে কাশ্মীরের ৪০ দিনের ‘চিল্লাই কালান’; গুলমার্গ-সোনমার্গে পর্যটকদের ভিড়

জম্মু ও কাশ্মীরের তীব্র শীতের ৪০ দিনের পর্ব ‘চিল্লাই কালান’ শেষ হতে চলেছে ৩০ জানুয়ারি। তার মধ্যেই উপত্যকাজুড়ে হিমাঙ্কের নীচে নেমেছে রাতের তাপমাত্রা, আর নতুন তুষারপাতে গুলমার্গ ও সোনমার্গে পর্যটকদের ঢল নেমেছে।

বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের প্রায় সর্বত্রই রাতের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে নেমে যায়। জনপ্রিয় স্কি রিসর্ট গুলমার্গে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে মাইনাস ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শ্রীনগরের তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ০.৬ ডিগ্রি, পহেলগাঁওয়ে মাইনাস ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

জম্মু বিভাগে জম্মু শহরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭.২ ডিগ্রি, কাত্রায় ৬.৪, বাটোতে ০.৯, বানিহালে মাইনাস ২.৬ এবং ভাদেরওয়াহে মাইনাস ৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত আবহাওয়া সাধারণত শুষ্ক ও মেঘলা থাকবে। তবে ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যের বিভিন্ন অংশে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ফের শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে গন্দরবল, বান্দিপোরা ও কুপওয়ারা জেলার উঁচু এলাকায় তুষারধসের সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। বাসিন্দাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সোনমার্গে একটি তুষারধসের ঘটনার পর এই সতর্কতা জারি হয়। যদিও ওই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দ্রুত পুলিশ ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF) মোতায়েন করা হয়।

গন্দরবল পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে তুষারধসের সম্ভাবনা এখনও “খুব বেশি” রয়েছে।

শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক বুধবার থেকে দুই দিকেই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে যানজট এড়াতে চালকদের লেন শৃঙ্খলা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জোজিলা পাসে ভারী তুষারপাতের কারণে শ্রীনগর-লেহ সড়ক এবং পির কি গলিতে তুষার জমে থাকার ফলে মুঘল রোড এখনও বন্ধ রয়েছে।

এছাড়াও অনন্তনাগ থেকে কিশ্তওয়ার যাওয়ার সিন্থান পাস এবং বান্দিপোরার গুরেজ উপত্যকার দিকে যাওয়া রাজদান পাস বন্ধ রয়েছে। বুধবার থেকে শ্রীনগর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।

২১ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ‘চিল্লাই কালান’ পর্বের শেষ দিকে জম্মু ও কাশ্মীরের উঁচু এলাকায় ভাল পরিমাণ তুষারপাত হয়েছে এবং জম্মু বিভাগের সমতলে বৃষ্টি হয়েছে। শ্রীনগর ও উপত্যকার অন্যান্য বড় শহরে সম্প্রতি মরশুমের প্রথম তুষারপাতও হয়েছে।

নতুন তুষারপাতে পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। গুলমার্গে হোটেলগুলির দখল প্রায় ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে, আর সোনমার্গে প্রায় ৭০ শতাংশ হোটেল বুকিং সম্পূর্ণ হয়ে গেছে।

Related posts

Leave a Comment