26 C
Kolkata
February 4, 2026
কলকাতা

বিশ্ব ফুটবলের যুবরাজ মেসির দর্শনে যুবভারতীতে তুলকালাম

নিজস্ব চিত্র

সংবাদ কলকাতা: বিশ্ব ফুটবলের যুবরাজ আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় শনিবার ভোর থেকেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। ফুটবলের শহর কলকাতায় ‘ভগবান’ মেসির দর্শন মিলবে—এই প্রত্যাশা নিয়েই মাঠে পৌঁছন সমর্থকেরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা অপূর্ণই থেকে যায়।

মাঠে প্রবেশের পরই নিরাপত্তা ঘিরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। মেসিকে ঘিরে অতিরিক্ত ভিড় এবং কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে তিনি অস্বস্তি বোধ করেন বলে জানা যায়। অল্প সময় হাত নাড়লেও পরিস্থিতি নিরাপদ নয় বুঝেই তাঁর ব্যক্তিগত সচিবের পরামর্শে যুবভারতী ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন মেসি। নিরাপত্তারক্ষীদের ঘেরাটোপে দ্রুত মাঠ ত্যাগ করে তিনি সরাসরি বিমানবন্দরের পথে রওনা দেন।

মেসি চলে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সমর্থকেরা। মাঠে জলভর্তি বোতল ছোড়া শুরু হয়, গ্যালারির চেয়ার ভেঙে মাঠে ফেলা হয়। এক পর্যায়ে ফেন্সিং টপকে বহু মানুষ মাঠে নেমে পড়েন। হোর্ডিং, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়, ভিআইপি সামিয়ানা ও সোফা ভাঙচুর করা হয়। এমনকি ভিআইপি সোফায় আগুন দেওয়ারও চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পুলিশের পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জায়ান্ট স্ক্রিনে মেসির মাঠ প্রদক্ষিণ দেখানোর কথা থাকলেও তা দেখানো হয়নি। বলা হয়েছিল তিনি পুরো মাঠ ঘুরবেন, সেটাও হয়নি। কয়েকজনের সঙ্গে ছবি তোলার ভিড়ের মধ্যেই মেসি হারিয়ে যান। মাঠে আসার কথা থাকা শাহরুখ খান, লিয়েন্ডার পেজের উপস্থিতিও দেখা যায়নি। অল্প সময়ের জন্য সৌরভ গাঙ্গুলিকে দেখা গেলেও পরে তিনি সরে যান। সন্তোষ ট্রফিজয়ী বাংলা দলের ফুটবলারদের সঙ্গে মেসির সাক্ষাতের কথাও বাস্তবায়িত হয়নি। আইএফএ জানিয়ে দেয়, মেসি আসার আয়োজনে তাদের কোনও ভূমিকা ছিল না।

ঘটনার জেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুবভারতীতে আসার পথে মাঝপথ থেকেই ফিরে যান। পরে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। প্রাক্তন বিচারপতি অসীমকুমার রায়কে ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে।

এদিকে আয়োজক সংস্থার প্রধান শতদ্রু দত্তের গ্রেপ্তার ও টিকিটের টাকা ফেরতের দাবিতে সরব হন সমর্থকেরা। মাঠের বাইরে ভিআইপি গেটের সামনে মেসিকে নিয়ে তৈরি বিশাল তোরণ ভেঙে ফেলা হয়, তাতে কয়েকজন আহত হন। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা সমর্থকেরাও হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

কলকাতার ফুটবল ইতিহাসে নব্বইয়ের দশকের ডার্বি-সংক্রান্ত অশান্তির পর এদিনের ঘটনা নতুন করে লজ্জার অধ্যায় যোগ করল। ভাঙচুরের ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি বলে অনুমান। রাতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণ পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস।

Related posts

Leave a Comment