February 27, 2026
রাজ্য

এসআইআর জট কাটাতে হাইকোর্টে দেড় ঘণ্টার বৈঠক, ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা থেকে ২০০ বিচারক চাওয়া হল

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করতে বৃহস্পতিবার ফের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসল Calcutta High Court। প্রধান বিচারপতি Sujay Paul-এর নেতৃত্বে হওয়া এই বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব Nandini Chakraborty, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Kumar Agarwal, রাজ্য পুলিশের ডিজি Piyush Pandey, কলকাতার পুলিশ কমিশনার Supratim Sarkar এবং বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।

সূত্রের খবর, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে যে তথ্যগত অসঙ্গতির সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেটিকেই চূড়ান্ত ধরা হবে এবং নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সংখ্যা ঘোষণা করবে। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বাকি বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের লগ-ইন আইডি ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা দ্রুত সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাঁরা অবিলম্বে কাজ শুরু করতে পারেন।

এসআইআর প্রক্রিয়াকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে ১০০ জন করে বিচারক চেয়ে পাঠিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এর আগে Supreme Court of India জানিয়েছিল, প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে বিচারক চাওয়া যেতে পারে। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই দুই রাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে।

ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে আসা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের থাকার জায়গা, খাবার এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমা পড়া অথচ এখনও আপলোড না হওয়া সমস্ত নথি দ্রুত আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট প্রতিদিন হাইকোর্টে জমা দেবে নির্বাচন কমিশন।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, মোট ৫৩০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক এই প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৭০ থেকে ২৮০ জন ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন। বাকিদের জন্য লগ-ইন আইডি ও ড্যাশবোর্ড তৈরির কাজ চলছে। বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, প্রতিবেশী রাজ্য থেকে আরও প্রায় ২০০ জন আধিকারিক যুক্ত হতে পারেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সংশোধিত ভোটার তালিকায় আপাতত প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ নাম থাকবে। তালিকায় অনুমোদিত ভোটারদের নাম ‘অ্যাপ্রুভড’ হিসেবে থাকবে। বাদ পড়া নামের পাশে ‘ডিলিট’ উল্লেখ থাকবে। যেসব নাম বিচার বিভাগীয় যাচাইয়ের অধীনে রয়েছে, সেগুলি ‘অ্যাজুডিকেশন’ হিসেবে চিহ্নিত হবে। নতুন ভোটারদের জন্য আলাদা সম্পূরক তালিকাও প্রকাশ করা হবে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২৮ তারিখের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে পৌঁছবে। ১ মার্চ থেকে তারা কাজ শুরু করবে। সেই সময় থেকে আইনগত কোনও সমস্যা হলে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার তাঁদের কাজে লাগাতে পারবেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী শুধু বসে থাকবে না, বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শনও করবে বলে জানানো হয়েছে।

এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে দ্রুত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের লক্ষ্যেই আদালত ও প্রশাসন যৌথভাবে তৎপর হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

Related posts

Leave a Comment