কলকাতা —পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণাকে ঘিরে জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখন ভোটের সূচি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন এক দফা অথবা সর্বাধিক দুই দফায় করার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্প্রতি হওয়া বৈঠকে বিজেপি, কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম) সহ একাধিক রাজনৈতিক দল ভোট এক বা দুই দফায় করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ভোট চললে নির্বাচনী প্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল আট দফায়। ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলেছিল ভোটগ্রহণ। দেশের ইতিহাসে বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম দীর্ঘতম ভোটসূচি হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময় করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন হওয়ায় প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্যজনিত কারণে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে একই সময়ে অন্য রাজ্যগুলিতে ভোট অনেক দ্রুত সম্পন্ন হয়েছিল। তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরিতে একদিনেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়। আসামে তিন দফায় ভোট হলেও তা প্রায় বারো দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিটি রাজ্যে ভোটের দফা নির্ধারণ করা হয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক বিষয় বিবেচনা করে। পশ্চিমবঙ্গের আয়তন, বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্র এবং নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার কারণেই সাধারণত বেশি দফায় ভোট হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ২০২১ সালের দীর্ঘ ভোটসূচি তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনগত শক্তিকে আরও কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই নির্বাচনে তৃণমূল বিপুল জয় পায়। অন্যদিকে বিজেপি উল্লেখযোগ্য আসন পেলেও কংগ্রেস এবং বাম দলগুলি কোনও আসন জিততে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ভোটসূচি নির্বাচনী খরচ বাড়ায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর চাপও বাড়ায়। একই সঙ্গে দীর্ঘ প্রচারে রাজনৈতিক বক্তব্য ও উত্তেজনাও তীব্র হয়ে ওঠে। এতে সামাজিক বা ধর্মীয় বিভাজনও বাড়তে পারে। আবার দীর্ঘ ভোটে ভোটারদের মধ্যে ক্লান্তিও তৈরি হয়, ফলে শেষ দফাগুলিতে ভোটের হার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা অনেক সময় ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে সুবিধাজনক হয়ে দাঁড়ায়।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবেও বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দামের ওঠানামা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ও মূল্য বৃদ্ধির মতো বিষয়ও এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে। ফলে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রচারের ধরন আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
