27 C
Kolkata
February 4, 2026
দেশ

নবিনের নেতৃত্বে বিজেপি দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতে বিস্তারে জোর দেবে


ভারতীয় গণতন্ত্রের দীর্ঘ যাত্রাপথে নীরব কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের এক মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির নতুন জাতীয় সভাপতি হিসেবে নিতিন নবিনের নির্বাচিত হওয়াকে। বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব গ্রহণ মানে শুধুমাত্র একটি সংগঠন চালানো নয়, বরং একটি আদর্শিক ও জাতীয় আন্দোলনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়া।বিজেপির আদর্শিক ভিত্তি গড়ে উঠেছে ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির জাতীয়তাবাদী চিন্তা এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ইন্টিগ্রাল হিউম্যানিজম ও অন্ত্যোদয় দর্শনের উপর।

নেশন ফার্স্ট’ এখানে কেবল স্লোগান নয়, বরং নীতিনির্ধারণের মূল চালিকাশক্তি। সমাজের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষের উন্নয়নই দলের রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু।কংগ্রেসের বংশানুক্রমিক নেতৃত্ব সংস্কৃতির বিপরীতে বিজেপি বরাবরই সংগঠনের ভিতর থেকে উঠে আসা কর্মীদের নেতৃত্বে আনার উপর জোর দিয়েছে। নিতিন নবিনের উত্থান সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন। অটল বিহারী বাজপেয়ি ও এল.কে. আডবাণীর নেতৃত্বে যে আধুনিক বিজেপির ভিত্তি গড়ে উঠেছিল, পরবর্তীতে মুরলী মনোহর যোশি, রাজনাথ সিং, নিতিন গডকরি, অমিত শাহ ও জে.পি. নাড্ডার হাত ধরে দল সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে আরও বিস্তৃত হয়েছে।বর্তমানে নিতিন নবিনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি, বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও কেরালায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা।

একই সঙ্গে পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে দলের ক্রমবর্ধমান ভোটব্যাঙ্ককে স্থায়ী রাজনৈতিক সাফল্য ও শাসনক্ষমতায় রূপান্তর করাও তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।নিতিন নবিনের কাজের ধরণ নীরব কিন্তু কার্যকর বলে পরিচিত। বিহারে এনডিএ-র একাধিক নির্বাচনী সাফল্য এবং ছত্তিশগড়ে ২০২৩ সালে কংগ্রেস সরকারকে পরাস্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর সংগঠনিক ভূমিকা দলের অন্দরেই স্বীকৃত। তুলনামূলকভাবে কম বয়সে জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্ব গড়ে তোলার সুযোগও তাঁর সামনে রয়েছে।রাজনৈতিক মহলের মতে, নিতিন নবিনের নির্বাচনের মাধ্যমে বিজেপি প্রজন্মান্তরের নেতৃত্ব গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছে। দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতে সংগঠন বিস্তারের লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি একটি নতুন রাজনৈতিক পর্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related posts

Leave a Comment