পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতেই নতুন বিতর্কে জড়াল বিজেপি। মোট ১৯ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে এই তালিকায়। তার মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত— পাণিহাটি কেন্দ্র থেকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যাওয়া ঘটনার নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। দলের নেতাদের দাবি, একটি সংবেদনশীল ও দুঃখজনক ঘটনাকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য ব্যবহার করছে বিজেপি। তৃণমূলের বক্তব্য, ‘মানুষের দুঃখ-যন্ত্রণা নিয়ে রাজনীতি করা অত্যন্ত লজ্জাজনক। বিজেপি বারবার এই ধরনের কাজ করে প্রমাণ করেছে তারা কতটা অসংবেদনশীল।’
পাণিহাটি এলাকায় ইতিমধ্যেই এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন সাধারণ মানুষকে রাজনীতির ময়দানে আনা ঠিক হলেও, তার পেছনে উদ্দেশ্য যদি রাজনৈতিক লাভ হয়, তবে তা প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, তারা সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে সহানুভূতির আবহ তৈরি করতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বিজেপি। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠিত শক্তি ও উন্নয়নের রাজনীতির সামনে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতি এখন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট, এবারও বিজেপি নানা চমক দিয়ে নির্বাচনী লড়াই জমাতে চাইছে। কিন্তু তৃণমূলের দাবি, মানুষের সমর্থন তাদের দিকেই রয়েছে এবং এই ধরনের পদক্ষেপে ভোটাররা প্রভাবিত হবেন না।
