27 C
Kolkata
February 4, 2026
দেশ

উত্তরপ্রদেশে ভোটের আগে বিজেপি-এনডিএর অন্দরে অন্তর্দ্বন্দ্ব

উত্তরপ্রদেশে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সব রাজনৈতিক দলই জোরকদমে নেমেছে। তবে শাসক ভারতীয় জনতা পার্টি ও এনডিএ জোটের অন্দরে ক্রমশ প্রকাশ্যে আসা মতবিরোধ দলীয় নেতৃত্বের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের মধ্যে দূরত্ব এবং মন্ত্রিসভার অন্দরেই মতানৈক্য এখন প্রকাশ্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মহোবায় ৩০ জানুয়ারি জলসম্পদমন্ত্রী স্বতন্ত্র দেব সিং ও স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ব্রিজভূষণ রাজপুতের মধ্যে প্রকাশ্য বাকবিতণ্ডা এই অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও দলীয় নেতৃত্ব একে ছোট ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে তবু রাজনৈতিক মহলে এটিকে ক্ষমতা ও সংগঠনের ভারসাম্যহীনতার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী জানিয়েছেন বিষয়টি দলীয় স্তরে জানা আছে এবং সংশ্লিষ্ট দুই নেতার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলায় ফাটল স্পষ্ট হয়েছে।

২০২২ সালের জুলাইয়ে জলসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দীনেশ খটিকের প্রকাশ্য পদত্যাগ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সেই অস্বস্তির বড় ইঙ্গিত ছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ও দলীয় কোন্দল সামনে আসে যখন মুজাফফরনগরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সঞ্জীব বালিয়ান ও প্রাক্তন বিধায়ক সঙ্গীত সোমের বিবাদ একাধিক আসনে প্রভাব ফেলে। ফল ঘোষণার পর সাহারানপুরের বিজেপি প্রার্থী রাঘব লক্ষণপাল শর্মা প্রকাশ্যে দলীয় নেতা ও বিধায়কের বিরুদ্ধে পরাজয়ের জন্য দায়ী করেন। শুধু বিজেপির মধ্যেই নয়, শরিক দলগুলির সঙ্গেও মতবিরোধ স্পষ্ট হচ্ছে।

সম্প্রতি মন্ত্রিসভার দুই সদস্য ওম প্রকাশ রাজভর এবং অনিল রাজভরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। একই সম্প্রদায় ও এলাকাভুক্ত এই দুই নেতা প্রকাশ্য সভায় একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন যা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। নির্বাচনের মুখে বিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনআস্থা বজায় রাখা। বহু এলাকায় জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের প্রান্তিক মনে করছেন এবং প্রশাসনের অতিরিক্ত প্রভাব নিয়ে অভিযোগ উঠছে।

এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ, পঞ্চায়েত নির্বাচন, রাজ্য সংগঠনের পুনর্গঠন এবং আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকের মাধ্যমে অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সময়মতো সরকার ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার না হলে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিরোধীদের জন্য বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

Related posts

Leave a Comment