মহারাষ্ট্রের স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি জোটের বিপুল সাফল্য মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের রাজনৈতিক কেরিয়ারে এক নতুন মাইলফলক যোগ করল। ২৯টি পুরনিগমের মধ্যে ২৫টিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বিজেপি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। মুম্বইয়ের ব্রিহন্মুম্বই পুরনিগমের মতো দীর্ঘদিনের শিবসেনা দুর্গেও সাফল্য পেয়েছে গেরুয়া শিবির, পাশাপাশি পুনে ও নাগপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরেও নিজেদের আধিপত্য সুদৃঢ় করেছে।
এই জয়ের ফলে বিজেপির অন্দরে ফডণবীসের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এর ফলে তিনি জাতীয় স্তরে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আলোচনায় উঠে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পাশাপাশি।
দলের অন্দরের সূত্র জানাচ্ছে, এই নির্বাচনী সাফল্যের বড় কারণ রাজ্য স্তরেই পরিকল্পিত কৌশল। প্রার্থী নির্বাচন থেকে ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন, উন্নয়নমুখী বার্তা ও প্রচার—সব ক্ষেত্রেই ফডণবীসের ভূমিকা ছিল মুখ্য। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সরাসরি হস্তক্ষেপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল বলেই দাবি পর্যবেক্ষকদের।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্রে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর এই জয় বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ৪৮টি লোকসভা আসন নিয়ে মহারাষ্ট্র সংসদীয় রাজনীতিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্য, ফলে এই সাফল্য দলকে নতুন গতি দিল বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
ফডণবীস অবশ্য এই জয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের কর্মী, উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বকে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর নেতৃত্বেই মহাযুতি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে সক্ষম হয়েছে।
এই ফলাফল ফডণবীসের জাতীয় রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জল্পনাও বাড়িয়েছে, বিশেষ করে ২০২৯-এর পর বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রদবদলের সম্ভাবনা ঘিরে। যদিও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আপাতত দিল্লির পথে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও তাৎক্ষণিক কোনও পদোন্নতি অনিশ্চিত।
অন্যদিকে, যোগী আদিত্যনাথ বিজেপির মধ্যে এখনও শক্তিশালী মুখ। উত্তরপ্রদেশের মতো বৃহৎ রাজ্যে তাঁর প্রভাব, কড়া আইনশৃঙ্খলা নীতি ও হিন্দুত্বের দৃঢ় অবস্থান তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তবে নেতৃত্বের ধরনে পার্থক্য স্পষ্ট—যেখানে যোগীর শাসনশৈলী আক্রমণাত্মক ও আদর্শগতভাবে কঠোর, সেখানে ফডণবীসকে দেখা হয় প্রযুক্তিনির্ভর, বিনিয়োগবান্ধব ও সমঝোতামুখী প্রশাসক হিসেবে।
