পাটনায় এক নিট পরীক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ডিজিপি বিনয় কুমার ও মুখ্যসচিব প্রত্যয় অমৃতকে তলব করেন। এই পদক্ষেপকে মামলায় বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহত পরীক্ষার্থীর পরিবার উপ-মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে ন্যায়বিচারের আবেদন জানালে তিনি দ্রুত রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকদের তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনার নির্দেশ দেন।
নির্দেশ অনুযায়ী মুখ্যসচিব ও ডিজিপি উপ-মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে উপস্থিত হন। উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পাটনা আইজি জিতেন্দ্র রানা, এসএসপি কার্তিকেয় কে শর্মা, এএসপি অভিনব এবং বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, সম্রাট চৌধুরী নিজে এই মামলার প্রতিটি দিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বৈঠকের পর বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। ঘটনাটি জেহানাবাদ জেলার এক নিট পরীক্ষার্থীর মৃত্যু সংক্রান্ত, যাকে শম্ভু গার্লস হোস্টেলে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে পাটনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গেছে। যদিও এসআইটির তদন্ত চলছে, তবে রিপোর্ট জমা দিতে দেরি হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে নিহতের মা ডিজিপির সঙ্গে দেখা করে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, পুলিশকে ‘কেনা হয়েছে’ এবং উচ্চপদস্থ থেকে শুরু করে নিম্নপদস্থ আধিকারিকদের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করেন। পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখিয়ে যৌন নির্যাতনের বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা জানিয়েছে, বিহার পুলিশের ওপর তাদের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে এবং ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা করছেন।
সূত্র অনুযায়ী, এসআইটি এখনও পর্যন্ত ছয়জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে এবং তদন্ত একটি চূড়ান্ত পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে বলে দাবি করা হলেও পরিবার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছে। এই ঘটনায় জনমত ও রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে এবং দ্রুত ও বিশ্বাসযোগ্য ন্যায়বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে।
