23 C
Kolkata
February 4, 2026
দেশ

বিহার ভোটে তরজা: বিজেপির ‘বৃহৎ জয়ের’ দাবি, অসন্তোষ কংগ্রেসের

প্রতীকী চিত্র

পাটনা — আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা ঘিরে শুরু হয়ে গেল রাজনৈতিক তরজ়া। সোমবার ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) রাজ্যের দু’দফা ভোটের তারিখ ঘোষণা করার পরেই শাসকদল বিজেপি আত্মবিশ্বাসী সুরে জানাল, ‘এনডিএ জোট আসন্ন নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পাবে’। অন্যদিকে মহাগঠবন্ধনের শরিক কংগ্রেস তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে অভিযোগ তুলেছে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির ‘সহযোগী’ হয়ে উঠেছে।

ইসিআই প্রধান জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, প্রথম দফার ভোট হবে ৬ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় দফা ভোট হবে ১১ নভেম্বর। কমিশনের প্রতিনিধি দল গত সপ্তাহান্তে বিহারে গিয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সূচি নির্ধারণ করেছে।

বিজেপির আত্মবিশ্বাস, কংগ্রেসের ক্ষোভ
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সৈয়দ জাফর ইসলাম বলেন, ‘এনডিএ জোট পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা বৃহৎ জয়ের পথে এগোচ্ছি। এবার রেকর্ড আসনে জয় পাবে বিজেপি। তেজস্বী যাদব বড় বড় দাবি করেন, কিন্তু তাঁর নাগাল সীমিত। আমাদের সব শরিকই শক্তিশালী। মহাগঠবন্ধনে কংগ্রেস আরজেডিকে দুর্বল করছে, তাই তারা পরাজিত হবে।’

অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ লেখেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট নই। কমিশনকে প্রতিদিন প্রশ্ন করা হচ্ছে। তারা বলেছিল অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে — কোথায় সেই পদক্ষেপ? এখন দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একজোট।’

তেজস্বীর বার্তা — ‘বিহারের পরিবর্তনের দিন আসছে’
আরজেডি নেতা ও প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব বলেন, ‘আমার প্রিয় বিহারবাসী, ভোটগণনার দিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, কারণ সেটিই হবে বিহারের পরিবর্তনের সূচনা।’

তিনি মহাগঠবন্ধনের ‘পরিবর্তনের সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, বিহারের মানুষ এবার উন্নয়ন ও মর্যাদার পক্ষে রায় দেবে।

জেডিইউ-এর ভরসা নীতীশে
জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন প্রসাদ বলেন, ‘কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দুই দফায় হবে। বিগত ২০ বছরে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে আমরা উন্নয়ন করেছি। জনগণের সঙ্গে আমরা নিবিড়ভাবে যুক্ত। আমরা নিশ্চিত, মানুষ আবারও নীতীশজিকে আশীর্বাদ করবে।’

রাজ্যপালের শান্তি বার্তা
বিহারের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান বলেছেন, ‘নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত ইস্যু মিটে গিয়েছে। মানুষ এখন উদ্দীপনার সঙ্গে ভোটে অংশ নেবে। ভোটাধিকার প্রয়োগে কেউ যেন ভয় না পায় — সেই দায়িত্ব প্রশাসনের।’

Related posts

Leave a Comment