কলকাতা, ২৪ জানুয়ারি: পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত বেলডাঙায় সাম্প্রতিক হিংসা পূর্বপরিকল্পিত বলেই অভিযোগ করল বিজেপি। দলের দাবি, ঝাড়খণ্ডে কর্মরত এক পরিযায়ী শ্রমিকের আত্মহত্যাকে খুন বলে প্রচার করে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি ছড়ানো হয়েছে।
বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি সেলের প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য ঝাড়খণ্ড পুলিশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টের উল্লেখ করে বলেন, আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু আত্মহত্যা বলেই চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবুও সেই ঘটনাকে খুন বলে তুলে ধরে বেলডাঙায় টানা দু’দিন ধরে হিংসা চালানো হয়েছে।
শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অমিত মালব্য বলেন, “ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিন শেখের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর প্রকৃত তথ্য সামনে আসার আগেই খুনের দাবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর জেরেই বেলডাঙায় হিংসা ও ভয়ভীতি তৈরি হয়।”
ময়নাতদন্ত রিপোর্ট উদ্ধৃত করে তিনি জানান, রিপোর্টে স্পষ্টভাবে ‘অ্যান্টি-মর্টেম হ্যাঙ্গিং’ অর্থাৎ মৃত্যুর আগে গলায় ফাঁস লাগানোর কথা বলা হয়েছে এবং শরীরে কোনও আঘাত, ক্ষতচিহ্ন, ভাঙা হাড় বা হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই তথ্য ঝাড়খণ্ডের পালামু জেলার পুলিশ সুপার রেশমা রামেসনের তরফেও নিশ্চিত করা হয়েছে এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
মালব্য আরও অভিযোগ করেন, মৃতের পরিবার ঝাড়খণ্ড পুলিশের তদন্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছিল এবং দেহ ফেরত পাওয়ার পর কোনও আপত্তি জানায়নি। তবুও চিকিৎসা ও তদন্ত সংক্রান্ত স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও বেলডাঙায় জোর করে একটি ভিন্ন বয়ান চাপিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, বেলডাঙা থানার বিশেষ তদন্তকারী দল ঝাড়খণ্ডে গিয়ে মৃতের সহকর্মী পরিযায়ী শ্রমিকদের বয়ান নেয়। তাঁদের কেউই খুনের অভিযোগ করেননি। দেহ ফিরিয়ে আনা কাসিম শেখ বা মৃতের খুড়তুতো ভাই এরশাদ শেখ—কারও বক্তব্যেই ষড়যন্ত্র বা খুনের ইঙ্গিত ছিল না। পরিবারকে গোটা প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিয়মিতভাবে, এমনকি ভিডিও কলের মাধ্যমেও জানানো হয়েছিল।
এরপর একাধিক প্রশ্ন তুলে বিজেপি নেতা বলেন, “কে এই গুজব ছড়াল? কারা রাস্তা ও রেললাইন অবরোধ করে লাভবান হল? কেন ফরেনসিক সত্য সামনে আসার আগেই জনতার হিংসাকে নিয়ন্ত্রণ করা হল না? কেন সাংবাদিকদের উপর হামলা চলল এবং কেন প্রশাসন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুপস্থিত ছিল?”
এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির মধ্যেই লুকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন অমিত মালব্য।
