April 8, 2026
কলকাতা

বারাসতে বিজেপির প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, তাপস মিত্রকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে সামনে আনার প্রস্তুতি

ফাইল চিত্র

সংবাদ কলকাতা: বারাসত বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে তীব্র অশান্তি শুরু হয়েছে। শঙ্কর চ্যাটার্জিকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের একাংশ ক্ষোভে ফুঁসছেন। সেই ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে এসেছে। সম্প্রতি পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখিয়ে নিজেদের অসন্তোষ জানাতে দেখা গিয়েছে কর্মীদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শঙ্কর চ্যাটার্জির ব্যক্তিগত জীবনযাপন, বিতর্কিত আচরণ এবং সংগঠনের প্রতি দায়িত্বহীনতা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমে ছিল। কর্মীদের অভিযোগ, দলের সুবিধা-অসুবিধার সময়ে তাঁকে পাশে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে যখন কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছিলেন, তখন তিনি সামনে দাঁড়াননি। বরং নিজেকে আড়াল করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার পর থেকেই তাঁর প্রতি আস্থা কমতে শুরু করে। অথচ আবারও তাঁকেই প্রার্থী করা হয়েছে, যা অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য। স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দাবি, এই প্রার্থী তাঁদের উপর ‘চাপিয়ে দেওয়া’ হয়েছে। ফলে সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

এদিকে শঙ্কর চ্যাটার্জির ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। অতীতে সামাজিক মাধ্যমে তাঁর মাতলামি এবং অশালীন আচরণের অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মহিলাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এই সব বিষয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই পরিস্থিতিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। দলীয় মহলের একাংশের দাবি, তাঁর প্রভাবেই শঙ্কর চ্যাটার্জি প্রার্থী হয়েছেন। এমনকি গুঞ্জন রয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল শিবির মনে করছে, মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং কাজের অভিজ্ঞতায় সব্যসাচী দত্ত অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। বিজেপির অন্দরের এই বিভাজন তৃণমূলের পক্ষে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

এদিকে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়, শঙ্কর চ্যাটার্জি মনোনয়ন জমা দিলেও তাঁর হয়ে প্রচারে নামতে দেখা যাচ্ছে না দলীয় নেতা-কর্মীদের। অনেকেই ইতিমধ্যে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। এমনকি বুথে এজেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রেও অনীহা দেখা যাচ্ছে।

সূত্রের খবর, আগামী ৯ এপ্রিল মনোনয়নের শেষ দিনে দলের কর্মীরা তাপস মিত্রকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তাঁর সমর্থনে প্রচারের পরিকল্পনাও শুরু হয়েছে। দীর্ঘ চার দশক ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত তাপস মিত্রকে সামনে এনে ‘যোগ্য নেতৃত্ব’-এর বার্তা দিতে চাইছেন ক্ষুব্ধ কর্মীরা।

প্রসঙ্গত, তাপস মিত্র দীর্ঘ সময় বিজেপির বারাসত জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করে আসছেন। বাজপেয়ির জমানা থেকে তৎকালীন অখণ্ড উত্তর ২৪ জেলা সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলে আসছেন তিনি। বিপদে-আপদে মানুষের এবং দলের নেতা কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজীবন সংযমী জীবন-যাপনে অভ্যস্ত তাপস মিত্রকে দূরে সরিয়ে এমন একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে বিজেপি কীভাবে প্রার্থী করল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তৃণমূল স্তরে।

এই পরিস্থিতি বিজেপির জন্য বড় সংকেত বলে মনে করা হচ্ছে। বারাসতে দলের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব ভোটের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Related posts

Leave a Comment