২০২২ সালের অঙ্কিতা ভাণ্ডারি হত্যা মামলায় ‘ভিআইপি’-র জড়িত থাকার নতুন অভিযোগ ঘিরে উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি মঙ্গলবার দাবি করেছেন, তাঁর সরকারের কাজ ব্যাহত করতে একটি ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, প্রমাণ মিললে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।নতুন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যখন পেপার লিকের প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল, সেখানেও একটি অডিও ক্লিপ সামনে এসেছিল। এবারও আরেকটি অডিও ক্লিপ থেকে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এটা কি ষড়যন্ত্র বলে মনে হয় না?”ধামি জোর দিয়ে বলেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড়া হবে না।নতুন অভিযোগের সূত্রপাত হয় গত বছরের ডিসেম্বরে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক সুরেশ রাঠোরের স্ত্রী উর্মিলা সানাওয়ারের প্রকাশ করা একটি কথিত অডিও ক্লিপ থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিও বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, অঙ্কিতা ভাণ্ডারি মামলায় উল্লিখিত ‘ভিআইপি’ একজন সিনিয়র বিজেপি নেতা। ভিডিওতে তিনি একটি অডিও ক্লিপও শোনান, যা তাঁর দাবি অনুযায়ী তাঁর স্বামীর সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ড।
ওই অডিওতে ‘গাট্টু’ নামে এক বিজেপি নেতার উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়, যা পরে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক দুষ্যন্ত গৌতমকে ইঙ্গিত করছে বলে জল্পনা তৈরি হয়। তবে দুষ্যন্ত গৌতম অভিযোগ অস্বীকার করে উর্মিলা সানাওয়ার ও কংগ্রেস নেতা গণেশ গোডিয়ালসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেছেন।মুখ্যমন্ত্রী ধামি বলেন, অডিও ক্লিপটি আগে যাচাই করা জরুরি এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁর সরকার আরও তদন্তে প্রস্তুত।
“একটি অডিও সামনে এসেছে যেখানে একাধিক ব্যক্তির নাম বলা হয়েছে। আমরা বলেছি, অডিওটি পরীক্ষা করা হোক এবং একটি SIT গঠন করা হয়েছে। পুলিশ অডিওতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। যাচাই হয়ে গেলে সব ধরনের তদন্ত করা হবে,” তিনি জানান।তিনি আরও বলেন, তাঁর সরকারের অতীত রেকর্ড প্রমাণ করে যে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে—তিনি যেই হোন না কেন—কোনওভাবেই রেহাই পাবেন না। তবে তার আগে অডিও ক্লিপের সত্যতা নিশ্চিত করা আবশ্যক।উল্লেখ্য, ১৯ বছর বয়সি অঙ্কিতা ভাণ্ডারি ঋষিকেশের একটি রিসর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন।
অভিযোগ, এক ভিআইপিকে যৌন সুবিধা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে হত্যা করা হয়। রিসর্ট মালিক পুলকিত আর্য (প্রাক্তন বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের ছেলে) এবং আরও দুই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
