ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর: বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হল। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও টেলিভিশন বিশ্লেষক আনিস আলমগীরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে ঢাকার অভিজাত এলাকায় তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে প্ররোচনা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় আনিস আলমগীরের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পুলিশের আবেদনে তাঁকে রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আনিস আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সমসাময়িক রাজনীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে স্পষ্ট ও সমালোচনামূলক বক্তব্য রেখে আসছেন। তাঁর গ্রেপ্তারের খবরে সাংবাদিক মহল, মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, ভিন্নমত দমন করতেই এই ধরনের মামলার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিক সংগঠনগুলির একাংশের বক্তব্য, ‘আইনের অপব্যবহার করে একজন প্রবীণ সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সংকেত’। তাঁদের দাবি, মতপ্রকাশ বা সাংবাদিকতার কাজকে কখনও সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না। এই ঘটনায় অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলার দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং কোনও ব্যক্তি তাঁর পেশা বা পরিচয়ের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে নন। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সমালোচকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই গ্রেপ্তার ভবিষ্যতে বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিসর আরও সংকুচিত করতে পারে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক স্তরেও নজর পড়েছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের পরিস্থিতির দিকে। কূটনৈতিক মহলের মতে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
