আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকার একটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এখনও অন্তত তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর গ্যাসকাটার নিয়ে গুদামের ভিতরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেছেন দমকলকর্মীরা।
দমকল সূত্রে জানা গেছে, ওই গুদামে মূলত শুকনো ও প্যাকেটজাত খাবার এবং ঠান্ডা পানীয়ের বোতল মজুত থাকত। পাশাপাশি থাকা আরও একটি গুদামেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দু’টি গুদামই প্রায় সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে।
রাত প্রায় ৩টে নাগাদ দমকলের কাছে আগুন লাগার খবর আসে। তবে গলির অনেকটা ভিতরে গুদামটি থাকায় আগুন নেভানোর কাজে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয় দমকলকর্মীদের। দমকলের মোট ১২টি ইঞ্জিনের দীর্ঘ চেষ্টায় সোমবার বেলা ১১টার পর আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। যদিও এখনও কয়েকটি জায়গায় আগুন জ্বলছে এবং তা নেভানোর কাজ চলছে।
ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি উদ্ধারকাজ পরিদর্শন করেন এবং নিখোঁজ কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। অরূপ বিশ্বাস জানান, পুলিশ ও দমকল যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভিতরে কেউ আটকে আছেন কি না, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার শুভেন্দ্র কুমার সোমবার দুপুরে বলেন, “এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে।” মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গুদামের বাইরে উদ্বিগ্ন অবস্থায় ভিড় জমিয়েছেন নিখোঁজ কর্মীদের পরিবার-পরিজনেরা।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রাত ১টা থেকেই গুদামে আগুন জ্বলছিল। ভিতরে আটকে পড়া কর্মীরা ফোন করে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন। বাঁচার জন্য দেওয়াল ভাঙার চেষ্টাও করেছিলেন তাঁরা। পরে আর তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এক জন নিখোঁজ কর্মীর আত্মীয় বলেন, “রাত ৩টের সময় ফোন করে বলেছিল, আমাকে বাঁচাও। আমরা সঙ্গে সঙ্গে চলে আসি। কিন্তু এখনও কাউকে খুঁজে পাইনি।”
রাতের ডিউটিতে থাকা কর্মীরা কীভাবে আগুনের মধ্যে আটকে পড়লেন এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
