প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বাংলায় আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বঙ্গ বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এ মাসের শেষেই তাঁর সফর চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার রাতে তিনি কলকাতায় পৌঁছবেন। নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে তাঁর রাত্রিবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানেই রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত।
পরদিন ৩১ জানুয়ারি শনিবার অমিত শাহ ব্যারাকপুরে দলের কর্মীসভায় যোগ দেবেন। বিজেপি সূত্রের দাবি, ব্যারাকপুরের আনন্দপুর মাঠে সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ একটি বড় জনসভাও হতে পারে। ওই সভা থেকে কর্মীদের উদ্দেশে আগামী দিনের নির্বাচনী রণকৌশল, সংগঠন মজবুত করার বার্তা এবং রাজ্য রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশ দেওয়ার কথা তাঁর। সময় ও সুযোগ থাকলে ওইদিনই ব্যারাকপুর থেকেই শিলিগুড়িতে একটি সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। শনিবারই দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফর শুধুই নিয়মরক্ষার নয়, বরং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি অনেকটাই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করে দেওয়ার ইঙ্গিত। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ধারণা, বিহার, আসাম, ওড়িশা ও ত্রিপুরার পরে বাংলাই এখন তাদের রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যভূমি। সেই কারণেই ভোটের আগে রাজ্যে বারবার আসছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৯ ডিসেম্বর তিনদিনের সফরে বাংলায় এসেছিলেন অমিত শাহ। সেই সময় একটি সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসকে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তার আগেও দু’দফা রাজ্য সফর করেছেন অমিত শাহ। একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দলীয় সংগঠন মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
শুধু অমিত শাহ নন, সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির একের পর এক কেন্দ্রীয় নেতার বাংলায় উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। ২৭ জানুয়ারি দু’দিনের সফরে রাজ্যে এসেছেন বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তার আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মালদহ থেকে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সূচনা করেন, সিঙ্গুরে জনসভা করেন এবং একাধিক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাও সম্প্রতি রাজ্যে এসে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘন ঘন সফরের মূল উদ্দেশ্য দ্বিমুখী— একদিকে রাজ্যের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করা, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কৌশলগত নির্দেশে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো। বুথ স্তর থেকে জেলা নেতৃত্ব পর্যন্ত সংগঠনের কাঠামো মজবুত করা, বিরোধী রাজনীতির মোকাবিলায় আক্রমণাত্মক কৌশল তৈরি করা এবং ভোটের আগে জনসংযোগ আরও বাড়ানো— সব মিলিয়েই এখন ঘুঁটি সাজাচ্ছে পদ্মশিবির।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে বিজেপি। অমিত শাহের আসন্ন বাংলা সফর সেই দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক কৌশলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
