23 C
Kolkata
February 4, 2026
রাজ্য

ভোটার তালিকা বিতর্কের মাঝেই কমিশনের আশ্বাস

পশ্চিমবঙ্গে কবে হবে এসআইআর? সঠিক সময়ে ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন
বিহার থেকে শুরু, এবার গোটা দেশজুড়ে ভোটার তালিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক। খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম বাদ পড়ায় উত্তেজনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগের মাঝেই রবিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানালেন—পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) কবে শুরু হবে, তা যথাসময়ে ঘোষণা করা হবে।
এপিক নম্বর নিয়ে অভিযোগের সমাধান
নির্বাচন কমিশনের দাবি, একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটার থাকার সমস্যা ইতিমধ্যেই মিটেছে। কখনও এক রাজ্যের নাগরিক ও অন্য রাজ্যের মানুষের হাতে চলে আসছিল একই নম্বর, আবার অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তির নাম থাকছিল একাধিক জায়গায়। মার্চ মাসেই কমিশন এই সমস্যার সমাধান করেছে। প্রায় তিন লক্ষ ভোটারের এপিক নম্বর নতুন করে দেওয়া হয়েছে।
বিদেশি নাগরিকদের নাম থাকবে না
বিহারের ভোটার তালিকায় নেপালি ও বাংলাদেশি নাগরিক থাকার অভিযোগ নিয়েও সাফ জানিয়ে দেন জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বক্তব্য, “সংবিধান অনুযায়ী শুধু ভারতের নাগরিকরাই ভোট দিতে পারবেন। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তথ্য যাচাই চলবে। নাগরিক নন, এমন কারও নাম ভোটার তালিকায় থাকলে তা বাদ দেওয়া হবে।”

কেন প্রয়োজন এসআইআর?
প্রতি বছরই ভোটার তালিকা সংশোধন হয়, তবে তা অনেক সময় ‘র‌্যান্ডম’ উপায়ে হয় বলে জানায় কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, “সবচেয়ে নিখুঁতভাবে ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের জন্যই এসআইআর প্রয়োজন। এর আগে একাধিকবার দেশজুড়ে এই প্রক্রিয়া হয়েছে।”
তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খসড়া তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে ত্রুটি সংশোধন— প্রতিটি ধাপেই রাজনৈতিক দলের বুথ এজেন্ট ও ভোটারদের সক্রিয় ভূমিকা জরুরি। খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা রাজনৈতিক দলগুলির হাতে পৌঁছনোর পরেও যদি ত্রুটি থাকে, জেলা প্রশাসন বা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে অভিযোগ জানানো যায়।

কমিশনের পাল্টা অভিযোগ
বিরোধীদের অভিযোগে পাল্টা সুরে কমিশনের দাবি, প্রকৃত দোষ রাজনৈতিক দলগুলির শৈথিল্যের। সময়ে তালিকা খতিয়ে না দেখার কারণেই পরে সমস্যা তৈরি হয়। জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “নির্বাচন কমিশন কোনও ভেদাভেদ করে না। ধনী-দরিদ্র, মহিলা-পুরুষ, প্রবীণ-যুবক—সব ভোটারের অধিকার রক্ষার দায়িত্ব আমাদের।”

সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ
খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের তথ্য প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রতিটি জেলার ওয়েবসাইটে বুথভিত্তিক নাম, এপিক নম্বর এবং নাম বাদ যাওয়ার কারণ স্পষ্ট করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তরা আধার কপি-সহ নতুন করে দাবি জানাতে পারবেন বলেও জানিয়েছে আদালত।

রাজনীতির ময়দানে সরব বিরোধীরা
এই আবহেই বিহারে শুরু হয়েছে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’। ২০টিরও বেশি জেলা পেরিয়ে ১ সেপ্টেম্বর পটনায় শেষ হবে এই কর্মসূচি। যাত্রার শুরুর দিনেই কমিশনের সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে।
সামনেই বিহার বিধানসভা নির্বাচন। ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কে উত্তপ্ত রাজনীতি, আর তারই মাঝে নজর এখন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Related posts

Leave a Comment