নিজস্ব প্রতিনিধি, আলিপুরদুয়ার — অসমের চা-বাগানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তোলার ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। তবে রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন—এই বার্তা কি শুধু অসমের জন্য, না কি বাংলার চা-বলয়, বিশেষ করে আলিপুরদুয়ারকে টার্গেট করেই এই প্রচার?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অসমে বিজেপির সংগঠন তুলনামূলক শক্তিশালী হলেও, চা-বাগানকে ঘিরে প্রতীকী প্রচারের লক্ষ্য হতে পারে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার জেলার মতো জায়গায়, যেখানে চা-শ্রমিকদের বড় অংশ ভোট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
সরকারি তথ্য বলছে, আলিপুরদুয়ার জেলায় মোট ৬০টি চা-বাগান রয়েছে। তার মধ্যে ৩৭টি বাগান বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে চলছে, ১৯টি রুগ্ন অবস্থায় এবং ৪টি সম্পূর্ণ বন্ধ। অতীতে বেতন না পাওয়া ও কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভও ছড়িয়েছে।
এই জেলার প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটারই চা-শ্রমিক পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই ভোটব্যাঙ্ক দখল করাই রাজনৈতিক দলগুলির মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, রাজ্যে চা-শ্রমিকদের জন্য একাধিক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই কাজ হয়েছে বলে তাদের বক্তব্য।
অন্যদিকে, বিজেপির এই প্রতীকী প্রচারকে তৃণমূল কটাক্ষ করে বলছে, বাইরে থেকে স্বপ্ন দেখানো সহজ, কিন্তু বাস্তবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আসল কাজ।
স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ, চা শিল্পের বাস্তব অবস্থা এবং ভোটের অঙ্ক—সব মিলিয়ে আলিপুরদুয়ারে ছাব্বিশের নির্বাচন ঘিরে লড়াই ক্রমেই জমে উঠছে।
