বুধবার সকালে দেশবাসী এক ভয়াবহ খবরে ঘুম ভাঙে। পুনে জেলার বরামতিতে একটি ছোট বেসরকারি বিমান দুর্ঘটনায় পড়ে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ বিমানে থাকা আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
বিমানটি মুম্বই থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে বরামতির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। আসন্ন স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনের আগে অজিত পাওয়ারের ওই দিন চারটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, দুর্ঘটনায় কেউ বেঁচে যাননি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোরে বিমানটি মুম্বই থেকে উড্ডয়ন করে। এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক সফরের অংশ, যেখানে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল অজিত পাওয়ারের।
পুনে জেলায় কী পরিস্থিতিতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জরুরি পরিষেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বিমানে থাকা পাঁচজনকেই ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।
বিমান সম্পর্কে: লিয়ারজেট ৪৫এক্সআর
দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি ছিল একটি লিয়ারজেট ৪৫এক্সআর বিজনেস জেট। এটি একটি মাঝারি আকারের জেট, যা সাধারণত বেসরকারি ও চার্টার্ড ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হয়। বিমানটি VSR Ventures প্রাইভেট লিমিটেডের মালিকানাধীন ও পরিচালিত, যা ভারতের অন্যতম বৃহৎ নন-শিডিউলড বিমান পরিষেবা সংস্থা।
লিয়ারজেট ৪৫ সিরিজের বিমানগুলো ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে বম্বার্ডিয়ার অ্যারোস্পেস তৈরি করে। স্বল্প থেকে মধ্য দূরত্বের ভ্রমণের জন্য এটি নকশা করা হয়েছে এবং কর্পোরেট ও ভিআইপি যাত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয়। এতে সর্বোচ্চ আটজন যাত্রী বসতে পারেন।
লিয়ারজেট ৪৫এক্সআর-এ দুটি হানিওয়েল TFE731 ইঞ্জিন রয়েছে, যা বিমানটিকে সর্বোচ্চ ৫১,০০০ ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম করে—যা অধিকাংশ বাণিজ্যিক বিমানের তুলনায় বেশি। এটি প্রায় ম্যাক ০.৮ গতিতে উড়তে পারে এবং এর পরিসর প্রায় ২,০০০ থেকে ২,২৩৫ নটিক্যাল মাইল।
মালিকানা: VSR Ventures
বিমানটির মালিক VSR Ventures প্রাইভেট লিমিটেড, দিল্লিভিত্তিক একটি বিমান পরিষেবা সংস্থা। সংস্থাটি VK সিংহ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর সদর দপ্তর নয়াদিল্লির মহিপালপুরে অবস্থিত।
এই সংস্থা প্রাইভেট জেট চার্টার, হেলিকপ্টার ভাড়া, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ও বিমান লিজিংয়ের কাজ করে। তাদের বহরে রয়েছে লিয়ারজেট ৪৫এক্সআর, বিচক্রাফট সুপার কিং এয়ার B200 এবং আগুস্তা ১০৯ হেলিকপ্টার।
অতীতের ঘটনা
এর আগেও VSR Ventures পরিচালিত একটি লিয়ারজেট ৪৫ দুর্ঘটনায় জড়িয়েছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুম্বই বিমানবন্দরে অবতরণের সময় একটি লিয়ারজেট রানওয়ে থেকে পিছলে যায়। ভারী বৃষ্টির মধ্যে ওই দুর্ঘটনায় সাতজন আহত হন। DGCA তখন তদন্ত শুরু করেছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
বরামতির দুর্ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নামার সময় বিমানটি অস্থির দেখাচ্ছিল এবং তারপরই ভয়াবহ বিস্ফোরণের সঙ্গে আগুন ধরে যায়। তিনি বলেন, “চোখের সামনেই সব দেখেছি। বিমানটি নামার সময় মনে হচ্ছিল দুর্ঘটনা ঘটবে, তারপরই সেটি বিস্ফোরিত হয়। আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে কাউকে উদ্ধার করা যায়নি।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন। DGCA নিশ্চিত করেছে, মুম্বই থেকে বরামতি আসার সময় অবতরণের চেষ্টাকালে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং বিমানে থাকা পাঁচজনের কেউই বেঁচে যাননি।
অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, নীতিন গডকরি, জে পি নাড্ডা, পীযূষ গোয়েল, কিরেন রিজিজু-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন এবং অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে একে মহারাষ্ট্র ও দেশের রাজনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করেছেন।
DGCA-র একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক রিপোর্টের পর দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
