21 C
Kolkata
March 21, 2026
দেশ বিদেশ

মাত্র একটি চুলের সূত্রেই পাকিস্তানের গোপন পরমাণু প্রকল্প ভেস্তে দিয়েছিলেন অজিত ডোভাল

সময়টা আশির দশক। পাকিস্তানের ইসলামাবাদের ধুলো-ধুসরিত রাস্তায় ছেঁড়া চাদর জড়িয়ে এক ভবঘুরে ভিখারির মতো দিন কাটাচ্ছেন এক ব্যক্তি। চারপাশের মানুষ কেউ তাঁকে পাত্তা দিচ্ছে না। অথচ সেই ‘ভিখারি’ ছিলেন ভারতের বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা RAW-এর এজেন্ট হিসেবে পাকিস্তানে দীর্ঘ সময় কাটান ডোভাল। তাঁর দায়িত্ব ছিল পাকিস্তানের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জোগাড় করা। কারণ ১৯৭৪ সালে ভারতের নিউক্লিয়ার টেস্টের পর থেকেই পাকিস্তান যেকোনও মূল্যে পরমাণু অস্ত্র বানাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। চিনসহ একাধিক দেশের সহযোগিতায় ইসলামাবাদ গোপনে চালাচ্ছিল ‘নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম’। কিন্তু ভারতের হাতে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল না। সেই প্রমাণ সংগ্রহের গুরুদায়িত্বই দেওয়া হয়েছিল ডোভালের হাতে।

চুলে ধরা পড়ল পরমাণু রহস্য

ডোভাল সেসময় কার্যত অদৃশ্য হয়ে যান পাকিস্তানের কাহুটা শহরে, যেখানে অবস্থিত ছিল খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ (KRL)— পাকিস্তানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পরমাণু কেন্দ্র। চায়ের দোকান, স্থানীয় বাজার, রাস্তার ধুলোয় ভিখারির ছদ্মবেশে তিনি মিশে যান সাধারণ মানুষের সঙ্গে।অভিযানের মোড় ঘোরে এক সাধারণ সেলুন থেকে। নিয়মিত সেখানে আসতেন কেআরএল-এর বিজ্ঞানীরা। চুল কেটে ফেললেই তা ফেলে দিত সেলুন। কিন্তু ডোভাল সযত্নে সেই চুল সংগ্রহ করতেন এবং গোপনে ভারতে পাঠাতেন।ভারতের ল্যাবে সেই নমুনা পরীক্ষায় মেলে ইউরেনিয়ামের চিহ্ন এবং বিকিরণের প্রমাণ। সেখানেই ধরা পড়ে পাকিস্তানের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির আসল সত্য।

১৫ বছর পিছিয়ে গেল পাকিস্তান

এই আবিষ্কারের পরই বদলে যায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নীতি। গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোভালের সেই সাহসী অভিযানের কারণে পাকিস্তানের পরমাণু পরীক্ষার ক্ষমতা অন্তত ১৫ বছর পিছিয়ে যায়।এই মিশন ছিল দীর্ঘমেয়াদি— টানা ছয় বছর ছদ্মবেশে জীবন কাটান তিনি। ধরা পড়লে শুধু নিজের জীবন নয়, ভারতের নিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ত। কিন্তু এক ভিখারির ছদ্মবেশ আর সামান্য কিছু চুলের নমুনা দিয়েই পাকিস্তানের সবচেয়ে গোপনীয় প্রকল্পকে কার্যত স্তব্ধ করে দেন অজিত ডোভাল।

Related posts

Leave a Comment