পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বিশ্ববাজারে। তারই সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতের বিমান পরিষেবায়। বুধবার এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে উড়ানের টিকিটের উপর অতিরিক্ত ফুয়েল সারচার্জ বসানো হবে।
সংস্থার তরফে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রুট ও দূরত্ব অনুযায়ী টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হবে। তবে দেশের অভ্যন্তরে যে কোনও গন্তব্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের টিকিটের মূল দামের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩৯৯ টাকা ফুয়েল সারচার্জ দিতে হবে। একইভাবে সার্কভুক্ত দেশগুলিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও ভাড়ায় বাড়তি চাপ পড়বে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিমানের জ্বালানি অর্থাৎ এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম দ্রুত বেড়ে চলেছে। বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই জ্বালানি খরচে ব্যয় হয়। সেই কারণেই লোকসান এড়াতে উড়ানের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাগুলি।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটন শিল্প। বসন্ত মরশুমে সাধারণত বিপুল সংখ্যক পর্যটক এই দুই পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণে আসেন। কিন্তু উড়ানের ভাড়া বাড়লে পর্যটকদের যাতায়াত খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
পর্যটন মহলের মতে, একদিকে রান্নার গ্যাসের সঙ্কটের কারণে হোটেল ও রেস্তরাঁয় খাবারের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে বিমান ভাড়া বেড়ে গেলে পর্যটকদের খরচ আরও বাড়বে। ফলে অনেক পর্যটক ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করতে পারেন।
রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু জানিয়েছেন, “এমনিতেই অনেক সময় কলকাতা-বাগডোগরা রুটে উড়ানের ভাড়া ১৫ হাজার টাকাও ছাড়িয়ে যায়। এখন যদি আরও সারচার্জ যোগ হয়, তাহলে পর্যটকদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠবে।”
হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি সম্রাট স্যান্যালের কথায়, বছরে প্রায় ৫০ হাজার বিদেশি পর্যটক উত্তরবঙ্গ ও সিকিমে আসেন। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা ইতিমধ্যেই কমেছে। এখন যদি দেশীয় পর্যটকদের যাতায়াত খরচও বেড়ে যায়, তবে পর্যটন শিল্পে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সামনে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তার আগে যদি পর্যটকের সংখ্যা কমে যায়, তাহলে হোটেল ও হোমস্টেগুলিতে বুকিং বাতিলের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।
