বিশাখাপত্তনম রেলস্টেশনে যাত্রী নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেল পূর্ব উপকূল রেল। এআই-ভিত্তিক ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমযুক্ত রেল রোবোকপ ‘এএসসি অর্জুন’-এর মাধ্যমে বাস্তব সময়ে অপরাধী শনাক্ত ও আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছেন রেল আধিকারিকরা।
নজরদারি ও টহলের কাজে নিয়োজিত এই রোবোকপ পূর্বে সংরক্ষিত অপরাধীদের ডেটাবেসের সঙ্গে সন্দেহভাজনের মুখের ছবি মিলিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিশাখাপত্তনম আরপিএফ সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে সতর্কবার্তা পাঠায়।
সতর্কবার্তা পাওয়ার পর ডিউটিরত সিসিটিভি কর্মী হেড কনস্টেবল বি এস নারায়ণা লাইভ ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাব-ইনস্পেক্টর ভি কীর্তি রেড্ডি ও ওয়ালটেয়ার ডিভিশনের ক্রাইম প্রিভেনশন ডিটেনশন স্কোয়াডকে অবহিত করেন।
দ্রুত সমন্বিত অভিযানে অভ্যাসগত অপরাধী হাডাপা শিব (৩৯) ও তার সহযোগী জি ভাঙ্গারুকে আটক করা হয়। তারা বৈধ টিকিট দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় আরপিএফ পোস্টে নিয়ে যাওয়া হয়। যাচাইয়ে জানা যায়, দু’জনের বিরুদ্ধেই রায়গড় পুলিশ স্টেশনে চুরি, ডাকাতি, হামলা ও অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর মামলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
পরে জিআরপি বিশাখাপত্তনমকে বিষয়টি জানিয়ে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে নিশ্চিত হয় যে স্টেশনে প্রবেশের সময়ই রেল রোবোকপ ‘এএসসি অর্জুন’-এর এআই ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম তাদের শনাক্ত করে। টিকিট ছাড়া যাত্রার অপরাধে ভারতীয় রেল আইন ১৯৮৯ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য রায়গড় পুলিশকেও জানানো হয়েছে।
পূর্ব উপকূল রেলের জেনারেল ম্যানেজার পরমেশ্বর ফুঙ্কওয়াল জানান, এই ঘটনা প্রমাণ করে যাত্রী নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ভূমিকা। বিশাখাপত্তনম স্টেশনে রেল রোবোকপের সাফল্যের পর ভবিষ্যতেও যাত্রী সুরক্ষার স্বার্থে এমন উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে।
