বারুইপুর—এসআইআর বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশনের ভোটার তালিকা ঘিরে বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বারুইপুরে এক জনসভায় নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি মঞ্চে তুলে আনলেন তিন জনকে, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। সেই দৃশ্য দেখিয়ে কমিশনের কাজকর্মকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘যাঁদের কাগজে মৃত দেখানো হয়েছে, তাঁরা আজ জীবিত হয়ে আমার সঙ্গে মঞ্চে দাঁড়িয়ে।
তাহলে কমিশনের তালিকায় কী চলছে? ভূতেরা কি র্যাম্পে হাঁটছে?’এ দিনের সভায় অভিষেক জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে অথবা তাঁদের মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ‘যাঁরা দিনের পর দিন কাজ করেন, কর দেন, ভোট দেন, তাঁদের হঠাৎ করে মৃত বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কেমন গণতন্ত্র?’— প্রশ্ন তোলেন তিনি।মঞ্চে তোলা তিন জন নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলেন, তাঁরা নিয়মিত ভোট দেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধাও পান। অথচ সম্প্রতি জানতে পারেন, ভোটার তালিকায় তাঁদের নামের পাশে ‘মৃত’ লেখা রয়েছে। এক জন জানান, স্থানীয় দপ্তরে গিয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে, ‘নথি ঠিক করুন’। এই অভিজ্ঞতার কথা শোনার পরই অভিষেক দাবি করেন, কমিশনের উপর রাজনৈতিক চাপ রয়েছে।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, আসন্ন ভোটের আগে এসআইআর প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে রাজ্যের একাধিক এলাকায় ভোটার তালিকা ‘ছাঁটাই’ করা হচ্ছে। অভিষেক বলেন, ‘ভোটারের নাম কেটে দিলে ভোটই হবে না। ভোট না হলে গণতন্ত্র থাকবে কোথায়?’ তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এক জন ভোটারের নাম অন্যায় ভাবে বাদ গেলেও তৃণমূল আন্দোলনে নামবে।সভায় উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশে তিনি নির্দেশ দেন, নিজেদের এলাকায় ভোটার তালিকা খুঁটিয়ে দেখে রাখতে। কোথাও অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা দলীয় দপ্তরে জানানোর কথাও বলেন তিনি।
একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁর দাবি, অবিলম্বে সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে এবং ভুল তালিকা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে হবে।বারুইপুরের মঞ্চে এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের মতে, কমিশনের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল। তবে তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য, ‘জীবিত মানুষকে মৃত বানিয়ে দেওয়া হলে তার প্রতিবাদ করাই তো গণতন্ত্র রক্ষা।’
