গ্যাংটক— পঞ্চায়েত সংক্রান্ত প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংহ ওরফে লল্লন সিংহ। এ বার থেকে আধারের পরিবর্তে ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বর এবং বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমে উপভোক্তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার গ্যাংটকে এক অনুষ্ঠানের পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর আগে গত শুক্রবার দিল্লিতে একটি জাতীয় কর্মশালাতেও একই ধরনের বক্তব্য রেখেছিলেন তিনি।
মন্ত্রীর বক্তব্য, এত দিন বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধার নম্বর ব্যবহার করা হত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় সেই পদ্ধতির পরিবর্তে ভোটার পরিচয়পত্রের ইলেকটরস ফটো আইডেন্টিটি কার্ড (এপিক) নম্বর এবং বায়োমেট্রিক তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, আধার কার্ড সহজেই তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় শুধু ওই নথির ভিত্তিতে সুবিধাভোগীদের পরিচয় যাচাই যথেষ্ট নয়।
রাজীবরঞ্জন সিংহ জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থায় সুবিধাভোগীদের নিজেদের ভোটার পরিচয়পত্রের এপিক নম্বর জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমেও পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। তাঁর মতে, এই পদ্ধতি চালু হলে একই ব্যক্তির নামে একাধিকবার নথিভুক্তি বা ভুয়ো পরিচয়ে প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা চিহ্নিত করা সহজ হবে। প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সাহায্য পৌঁছে দেওয়াই এই পরিবর্তনের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রীর যুক্তি, এখন প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই আধার তৈরি ও সংশোধনের কেন্দ্র রয়েছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আধার কার্ড তৈরি করে নেওয়া সম্ভব। সেই কারণে আধারকে একমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। নতুন ব্যবস্থায় ভোটার পরিচয়পত্রের নম্বরের সঙ্গে বায়োমেট্রিক তথ্য যুক্ত থাকলে সুবিধাভোগীদের পরিচয় যাচাই আরও নির্ভরযোগ্য হবে বলে তাঁর দাবি।
তবে নতুন নিয়ম ঠিক কোন কোন প্রকল্পে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট করেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কবে থেকে এই ব্যবস্থা চালু হবে, কী ভাবে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে, কিংবা ইতিমধ্যে আধারভিত্তিক ব্যবস্থায় থাকা সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আসবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি। ফলে আপাতত এটিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘোষিত প্রস্তাব বা পরিকল্পনার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, তখন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোটার পরিচয়পত্রকে গুরুত্বপূর্ণ নথি করার প্রস্তাব তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এসআইআর-এ কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লে তিনি পঞ্চায়েত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না— এমন কোনও কথা মন্ত্রী বলেননি।
উল্লেখ্য, গত আগস্টে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অর্থ নাগরিকত্ব হারানো নয়। একই ভাবে, শুধু ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে কেউ সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা থেকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে বঞ্চিত হবেন, এমন সিদ্ধান্তও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই নতুন পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা কার্যকর হলে তার নিয়ম, যোগ্যতার মাপকাঠি এবং বাদ পড়া বা নামহীন আবেদনকারীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে, সে বিষয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন।
