দিল্লি— সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) সাধারণ পরিষদে প্রাক্তন ফুটবলারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে শুরু হল নির্বাচনী প্রক্রিয়া। সেই নির্বাচনে দেখা যেতে পারে ভাইচুং ভুটিয়া, আইএম বিজয়ন, ব্রুনো কুটিনহো, ক্লাইমেক্স লরেন্স, ওইনাম বেমবেম দেবী এবং অদিতি চৌহানদের মতো পরিচিত মুখকে। ৪০ জন প্রাক্তন ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্য থেকে ভোটাভুটির মাধ্যমে দু’জন পুরুষ ও দু’জন মহিলা ফুটবলারকে বেছে নেওয়া হবে। নির্বাচন হবে আগামী ২৩ নভেম্বর।
এআইএফএফের নতুন সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদে প্রাক্তন ফুটবলারদের প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক। তাঁদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে ‘স্পোর্টসপার্সনস অফ আউটস্ট্যান্ডিং মেরিট’ বা এসওএম হিসেবে। ফুটবল প্রশাসনে খেলোয়াড়দের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোই এই ব্যবস্থার অন্যতম উদ্দেশ্য।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন হরিয়ানার অবসরপ্রাপ্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব শর্মা। তিনিই ২০ জন পুরুষ এবং ২০ জন মহিলা প্রাক্তন ফুটবলারের নামের তালিকা প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর ভোটাভুটির মাধ্যমে চার জনকে বেছে নেওয়া হবে।
পুরুষদের তালিকায় রয়েছেন ভারতীয় ফুটবলের দুই পরিচিত মুখ ভাইচুং ভুটিয়া ও আইএম বিজয়ন। তাঁদের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন ব্রুনো কুটিনহো এবং ক্লাইমেক্স লরেন্স। তালিকায় আরও রয়েছেন কে টি চাকো, সেতুমাধবন, সন্তোষ কাশ্যপ, আব্দুল মজিদ, রমন বিজয়ন, জো পল আনচেরি, সাবির পাশা, আব্দুল হাকিম, কে ভি ধনেশ, মহম্মদ ইউসুফ আনসারি, ভূপিন্দর ঠাকুর, কে এ আনসন, শরাফ আলি এবং ভিক্টর মঞ্জিলার মতো প্রাক্তন ফুটবলার।

মহিলা ফুটবলারদের তালিকাতেও রয়েছে একাধিক পরিচিত নাম। ভারতীয় মহিলা ফুটবলের অন্যতম মুখ ওইনাম বেমবেম দেবী এবং গোলরক্ষক অদিতি চৌহানের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন চিত্রা গঙ্গাধরণ, এস ললিতা, শ্রদ্ধাঞ্জলি সামন্তরে, আশালতা দেবী, শুক্লা দত্ত, বেন্টলা ডি’কথ, মিনু সোলাঙ্কি, উভেনা ফার্নান্ডেজ এবং পি শিবশঙ্করীর মতো প্রাক্তন ফুটবলার।
তবে তালিকা প্রকাশের পরেই তা নিয়ে ফুটবল মহলের একাংশে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কয়েকটি নামের অন্তর্ভুক্তির যোগ্যতা এবং তার ভিত্তি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। দেশের বিশিষ্ট প্রাক্তন ফুটবলার হিসেবে কারা বিবেচিত হলেন এবং কী মানদণ্ডে তাঁদের বেছে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে নির্বাচন ঘিরে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তেমনই তালিকা নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
বুধবার থেকেই নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর ভোটের মাধ্যমে চার জন প্রাক্তন ফুটবলার সাধারণ পরিষদে জায়গা পাবেন। পুরুষ ও মহিলা বিভাগ থেকে দু’জন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। তাঁদের উপস্থিতি এআইএফএফের প্রশাসনিক কাঠামোয় প্রাক্তন খেলোয়াড়দের ভূমিকা কতটা বাড়ায়, এখন সেদিকেই নজর ফুটবল মহলের।
