সংবাদ কলকাতা— কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুজো কমিটির পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, বারবার ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও সময়মতো পুলিশের খোঁজ মেলেনি। একই অভিযোগ মৃতদের পরিবারের সদস্যদের মুখেও শোনা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। রবিবার তিনি পানিহাটিতে মৃত দুই বাসিন্দার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। কলকাতার হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
চোরবাগানের ঘটনায় মৃত কল্পনা জানার পরিবারের সঙ্গে রবিবার সকালে দেখা করেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। শনিবার ভাইপো ও তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলেন কল্পনা। পানিহাটির জয় অ্যাপার্টমেন্টে তাঁর ছেলে ও মেয়ের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিবরণ শোনেন রত্না। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে বিধায়ক বলেন, ‘এরা বলছে পুজো কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে। পুলিশের গাফিলতি রয়েছে।’
ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন রত্না। তাঁর দাবি, পুজো মণ্ডপ থেকে বেরোনোর পথ অন্ধকার ছিল। তার উপর বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ভিড় পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, বিপর্যয়ের আগে মণ্ডপের ভিতরে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। আতঙ্কিত হয়ে দর্শনার্থীদের এদিক-ওদিক ছোটাছুটির জেরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে তিনি জানতে পেরেছেন। ভিড়ের চাপে অনেকে একে অপরের উপর পড়ে যান। পরে তাঁদের টেনে টেনে উদ্ধার করা হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এত বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমের পরেও কেন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, বড় পুজো মণ্ডপে ভিড় সামলানো, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালানো এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
চোরবাগানের ঘটনায় মৃত ১৩ বছরের কিশোর প্রাঞ্জল সরকারের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন রত্না। বাবা-মায়ের সঙ্গে পুজো দেখতে গিয়েছিল সে। কিন্তু অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে বাবা-মায়ের কাছ থেকে ছিটকে পড়ে যায় প্রাঞ্জল। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। কিশোরের মায়ের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে রত্না বলেন, ‘প্রাঞ্জলের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। ছেলের মৃত্যুর খবর এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না মা।’
এদিকে, চোরবাগানের বিপর্যয়ের তদন্তে নেমে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার সকালে সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির কয়েক জন কর্মকর্তা রয়েছেন। ভিআইপি পাস সামলানো এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার দুই কর্মীও।
এই ঘটনায় পুজো মণ্ডপের নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের তৎপরতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটল এবং কার কী গাফিলতি ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
previous post
