সংবাদ কলকাতা— দুর্গাপুজো মানেই ঠাকুর দেখা, হইহুল্লোড়, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। ছোটবেলা থেকেই পুজোর এই আনন্দে মেতে উঠতে ভালবাসেন মুর্শিদাবাদের মেয়ে দিব্যাণী। তবে এ বারের দুর্গাপুজো তাঁর কাছে আরও বিশেষ। কারণ, বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর প্রথম ছবি। পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ ছবির অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বসিত অভিনেত্রী। পুজোর আনন্দের সঙ্গে এ বার জুড়ে গিয়েছে নিজের অভিনীত ছবি দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার উত্তেজনাও।
দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাঙালির আবেগের সম্পর্ক বরাবরই গভীর। দিব্যাণীর কাছেও পুজো মানে সারা বছর অপেক্ষা করে থাকা কয়েকটা আনন্দের দিন। ছবির প্রচারের কাজে ইতিমধ্যেই কলকাতার বেশ কয়েকটি পুজোমণ্ডপ ঘোরা হয়ে গিয়েছে তাঁর। তবে শহরের পুজো দেখার পাশাপাশি মন পড়ে রয়েছে নিজের পাড়ার পুজোতেও। ছোটবেলার স্মৃতি, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো আর মায়ের হাতের রান্না— সব মিলিয়ে এ বারের পুজোর পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলেছেন তিনি।
মুর্শিদাবাদে দিব্যাণীর বাড়ির কাছেই একটি মন্দির রয়েছে, যেখানে ডাকের সাজে প্রতিমা তৈরি হয়। সেখানে অষ্টমীতে কুমারী পুজোর আয়োজন করা হত। ছোটবেলায় নিজে কখনও কুমারী পুজোর অংশ না হলেও ওই মন্দিরের বিশেষ ভোগের প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আকর্ষণ। বিশেষ করে লুচি আর সুজি খাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকতেন তিনি।
সেই স্মৃতি মনে করে দিব্যাণী জানিয়েছেন, এ বারও অষ্টমীর লুচি-সুজি খাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তাই আগেভাগেই মায়ের কাছে আবদার করে রেখেছেন, অষ্টমীতে যেন তাঁর জন্য লুচি-সুজি বানানো হয়। পুজোর আনন্দে এমন ছোট ছোট অভ্যাস আর খাবারের স্মৃতিই যে আলাদা জায়গা করে নেয়, দিব্যাণীর কথায় তা স্পষ্ট।
নিরামিষাশী হলেও খাওয়াদাওয়ার প্রতি তাঁর ভালবাসা প্রবল। এ বার কোনও ডায়েটের পরিকল্পনাও নেই অভিনেত্রীর। ছবির বিশেষ প্রদর্শন শেষ হলেই শুরু হবে তাঁর পুজোর ছুটি। কলকাতার কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে তার পর বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান তিনি। প্রতিবছর অষ্টমীতে মুর্শিদাবাদে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন দিব্যাণী। তার আগে কলকাতার পুজো দেখে নেওয়াই তাঁর রীতি।
মুর্শিদাবাদের পুজোও এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী। ছোটবেলায় যে ধরনের পুজো দেখেছেন, তার তুলনায় এখন থিমের পুজোর সংখ্যা বেড়েছে। বাড়ির পুজোর বাইরে অধিকাংশ জায়গাতেই বদলের ছাপ চোখে পড়ে। তবে নিজের শহরে ফিরে যাওয়ার আনন্দ তাঁর কাছে অন্য রকম। সেখানে পুজোর দিনগুলিতে কাজের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে থাকা যায়। বাবা-মা ও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, বাড়ির রান্না আর অবসর— এ ভাবেই পুজো কাটাতে ভালবাসেন তিনি।
কলকাতায় থাকলে খাওয়াদাওয়ার জন্য অনেক সময় রেস্তরাঁর উপরেই নির্ভর করতে হয় দিব্যাণীকে। তবে রাস্তার খাবারের প্রতিও রয়েছে তাঁর বিশেষ দুর্বলতা। নিরামিষ খাবারের মধ্যে পনিরের রোল তাঁর পছন্দের। ফুচকা আর আইসক্রিম ছাড়া পুজোর খাওয়াদাওয়া অসম্পূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি। পুজোর কেনাকাটায় এ বার শাড়ির দিকেই বেশি ঝুঁকেছেন অভিনেত্রী। ঠাকুর দেখা, খাওয়া আর সাজগোজ— সব মিলিয়ে পুজোর দিনগুলিকে নিজের মতো করে উপভোগ করতে চান তিনি।
ছোটবেলার পুজোর স্মৃতিও এখনও বেশ টাটকা দিব্যাণীর মনে। খ্রিস্টান স্কুলে পড়ার সময় দুর্গাপুজোর ছুটি পড়ার আগের দিন স্কুলে চিপ্স পার্টি হত। খুব বড় কোনও অনুষ্ঠান না হলেও সেই দিনটির জন্য অপেক্ষা করতেন পড়ুয়ারা। স্কুল ছুটি পড়লেই শুরু হয়ে যেত ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা।
একসময় বাবা-মায়ের হাত ধরে ভাইয়ের সঙ্গে সারা রাত জেগে ঠাকুর দেখতে বেরোতেন দিব্যাণী। রাতভর মণ্ডপ ঘুরেও চোখে ঘুম আসত না। এখন কাজের ব্যস্ততা বেড়েছে, তাই বাড়ি ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার দিকেই বেশি নজর দেন। তবু সুযোগ পেলেই বাড়ির আশপাশের পুজোমণ্ডপে ঘুরে আসেন। ঠাকুর দেখাই যে তাঁর পুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, তা জানাতে ভোলেননি অভিনেত্রী।
এ বারের পুজোয় অবশ্য সেই আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন দায়িত্ব ও উত্তেজনা। নিজের প্রথম ছবি বন্ধুদের দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে দিব্যাণীর। আলাদা করে এক দিন বাবা-মাকেও নিয়ে ছবিটি দেখতে যেতে চান তিনি। তাই এ বারের দুর্গাপুজো তাঁর কাছে শুধু উৎসব নয়, অভিনয়জীবনের এক নতুন অধ্যায় উদ্যাপনেরও উপলক্ষ।
previous post
