সংবাদ কলকাতা: রাজ্য সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার সুযোগ বাড়াল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দেশের আরও পাঁচটি সর্বভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার খরচ ফেরত পাওয়ার সুযোগ যুক্ত করা হল। অর্থ দপ্তরের মেডিক্যাল সেলের বুধবারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পটনা, গুয়াহাটি, কল্যাণী, ভুবনেশ্বর এবং দেওঘরের এমসকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে দিল্লির আনসারি নগরে অবস্থিত এমস এই সুবিধার আওতায় ছিল।
নতুন সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত কলকাতা থেকে দূরের জেলাগুলিতে বসবাসকারী উপভোক্তারা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিতে চিকিৎসা করাতে পারবেন। তবে চিকিৎসার খরচ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পের নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত মানতে হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এমসগুলিতে বহির্বিভাগে চিকিৎসা, বিভিন্ন পরীক্ষানিরীক্ষা, হাসপাতালে ভর্তি এবং অন্তর্বিভাগে চিকিৎসার জন্য যেতে পারবেন উপভোক্তারা। নতুন নির্দেশে চিকিৎসার আগে আগাম অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তবে চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যে পরিমাণ অর্থ নেবে এবং প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী যে পরিমাণ অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য, এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, সেই পরিমাণই ফেরত দেওয়া হবে। প্রকল্পের অন্যান্য সীমা ও বিধিনিষেধও বহাল থাকবে।
বহির্বিভাগে চিকিৎসার খরচ ফেরতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রোগ ও চিকিৎসার তালিকা অনুসরণ করতে হবে। ২০০৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত তালিকা এবং ২০২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের সংশোধিত নির্দেশ অনুযায়ী খরচ ফেরতের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তালিকার বাইরে থাকা রোগ বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে খরচ ফেরত পাওয়া যাবে না।
এ ছাড়া, এই পাঁচটি এমসে চিকিৎসা করাতে যাতায়াতের খরচ প্রকল্পের আওতায় ফেরত দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিতে যাতায়াতের জন্য কোনও সফর-ভাতাও মিলবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকেই নতুন নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। চিকিৎসার খরচ ফেরত সংক্রান্ত এই পরিবর্তন ছাড়া প্রকল্পের অন্য নিয়মগুলি আগের মতোই বহাল থাকবে।
রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের সংগঠনের নেতা মনোজ চক্রবর্তী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘এই সুযোগটা সর্বস্তরে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে প্রসারিত করল রাজ্য সরকার। যেখানে যেখানে এমস আছে, সেখানে রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনাররা যে সুযোগ-সুবিধা পাবেন, সেগুলো বিনা খরচে এবং যদি কিছু খরচ হয়, সেটা ফেরত দেবে রাজ্য সরকার।’ এই পদক্ষেপের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি।
নতুন তালিকাভুক্তির ফলে রাজ্য সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের উপভোক্তাদের চিকিৎসার পরিধি বাড়ল। তবে কোন চিকিৎসায় কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট নিয়ম, অনুমোদিত চিকিৎসার তালিকা এবং প্রকল্পের নির্ধারিত আর্থিক সীমার উপর।
previous post
