29 C
Kolkata
October 11, 2026
কলকাতা

শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির তিন নেতার

আগামী এক বছর শান্তি ভঙ্গ না করার নির্দেশ

দিল্লি: ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে মুক্তি দিল দিল্লি পুলিশ। শনিবার ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর তাঁদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে আটক করা হয়েছিল। রবিবার সকালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানোর পর নির্দিষ্ট শর্তে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ৫০ হাজার টাকার বন্ডে তিন জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী এক বছর তাঁদের শান্তি বজায় রাখতে হবে এবং শান্তিভঙ্গ হতে পারে, এমন কোনও কাজে যুক্ত হওয়া চলবে না।

তিন নেতার মুক্তির পর সিজেপির তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আরশোলারা কখনও মরে না। অবশেষে দীপকে, সৌরভ এবং রাঙ্কাকে ছাড়তে বাধ্য হল দিল্লি পুলিশ।’ দলের বক্তব্য, নেতাদের আটক করে আন্দোলন থামানো যাবে না। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত মেনেই তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, মুক্তি পেলেও আগামী এক বছর তাঁদের আচরণের উপর আইনি বিধিনিষেধ থাকবে।

সিজেপির আইনি দলের প্রধান রত্না সিংহ জানিয়েছেন, মুক্তির শর্ত অনুযায়ী তিন নেতা এক বছরের জন্য শান্তিভঙ্গ করতে পারেন, এমন কোনও কাজে অংশ নিতে পারবেন না। মুক্তির পর আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, রবিবার দুপুর ২টোয় তাঁরা সাংবাদিক বৈঠক করবেন। সেখানে আটক হওয়ার ঘটনা, মুক্তির শর্ত এবং পরবর্তী আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে তাঁরা বক্তব্য রাখতে পারেন।

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বাতিলের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন দীপকে, সৌরভ ও রাঙ্কারা। তাঁদের আটক করা হলে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্দে— এমন ঘোষণাও আগে করা হয়েছিল। বর্তমানে অজিঙ্ক মুম্বইয়ে রয়েছেন। রবিবার বিকেলে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে তাঁর প্রতিবাদ কর্মসূচি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ফের যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক দিয়েছে সিজেপি।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১২৬ ও ১৭০ ধারায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তিন নেতাকে আটক করা হয়েছিল। শনিবার সকালে মুম্বই থেকে দিল্লিগামী বিমানে রাজধানীতে পৌঁছন তাঁরা। সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর পুলিশ তাঁদের আটক করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মুক্তির দাবিতে সিজেপি সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে আদালতের শুনানির আগেই তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

শনিবার সকাল থেকে আটক তিন নেতার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তাঁদের পরিবারও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিল না বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই শনিবার দীর্ঘ অসুস্থতার পর অভিজিৎ দীপকের ঠাকুমার মৃত্যু হয়। দিল্লি পুলিশের দাবি, এই মৃত্যুসংবাদ দীপকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তবে আটক থাকার সময় তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কতটা ছিল, তা নিয়ে দলের তরফে প্রশ্ন উঠেছে।

যন্তর মন্তর অভিযানের আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও আটক করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয় এবং গভীর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এ ছাড়াও শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশকেই রাতের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।

তিন নেতার মুক্তির পরও আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা কমেনি। একদিকে সিজেপি ফের যন্তর মন্তর অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ মুক্তির শর্তের কথা স্পষ্ট করেছে। ফলে আগামী দিনে প্রতিবাদ কর্মসূচি কীভাবে এগোয় এবং প্রশাসন কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

Related posts

Leave a Comment