সংবাদ কলকাতা: অনেক মহিলার স্তনবৃন্ত ও তার চারপাশের অংশ অর্থাৎ অ্যারিওলার (Areola) রং তুলনামূলক গাঢ় বাদামি বা কালচে হয়। আবার কারও ক্ষেত্রে তা গোলাপি, হালকা বাদামি কিংবা লালচে হতে পারে। শরীরের এই স্বাভাবিক বৈচিত্র্য নিয়ে অনেকের মধ্যে কৌতূহল থাকলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে স্তনবৃন্তের রং মূলত শরীরের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যেরই অংশ।
স্তনবৃন্ত ও অ্যারিওলার রং নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে মেলানিন নামের এক ধরনের রঞ্জকের। ত্বকের রং তৈরিতেও এই রঞ্জকের ভূমিকা রয়েছে। শরীরে মেলানিনের পরিমাণ এবং জিনগত বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের কারণে একজনের স্তনবৃন্ত অন্যজনের তুলনায় অনেক গাঢ় হতে পারে। তাই কালচে বা গাঢ় বাদামি স্তনবৃন্তকে অস্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়ার কোনও কারণ নেই।
শুধু জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়, বয়স এবং হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গেও স্তনবৃন্তের রং বদলাতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের সময় অ্যারিওলা কিছুটা গাঢ় হতে পারে। একই ভাবে গর্ভাবস্থায় হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তনের কারণে স্তনবৃন্ত ও অ্যারিওলার রং আরও গাঢ় হয়ে যাওয়াও স্বাভাবিক ঘটনা। স্তন্যদান পর্বেও এই রঙের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, স্তনবৃন্তের রং দিয়ে কোনও মহিলার স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা কিংবা যৌন আকর্ষণ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। হালকা বা গোলাপি রং যেমন স্বাভাবিক, তেমনই গাঢ় বাদামি বা কালচে রংও স্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য হতে পারে।
এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ধারণারও প্রভাব রয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিজ্ঞাপন বা যৌন আবেদননির্ভর জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে শরীরের নির্দিষ্ট ধরনের চেহারাকে আকর্ষণীয় হিসেবে তুলে ধরা হয়। তার ফলে অনেকের মনে একটি নির্দিষ্ট রঙের স্তনবৃন্ত ‘স্বাভাবিক’ বা ‘বেশি আকর্ষণীয়’—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে। বাস্তবে স্তনবৃন্তের রঙের ক্ষেত্রে এমন কোনও সর্বজনীন সৌন্দর্যের মানদণ্ড নেই। ব্যক্তিভেদে পছন্দও স্বাভাবিকভাবেই আলাদা।
তবে স্বাভাবিকভাবে গাঢ় রঙের স্তনবৃন্ত এবং হঠাৎ কোনও পরিবর্তন—এই দুটিকে এক করে দেখা ঠিক নয়। যদি স্তনবৃন্ত বা অ্যারিওলার রঙে আচমকা এবং অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায়, বিশেষ করে তার সঙ্গে চুলকানি, ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া, ঘা, রক্তপাত, অস্বাভাবিক তরল বেরোনো, ব্যথা কিংবা স্তনে কোনও গাঁট থাকে, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
অর্থাৎ, কারও স্তনবৃন্ত কালচে এবং কারও গোলাপি—এই পার্থক্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরের স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের অংশ। এর সঙ্গে সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা বা ব্যক্তির যৌনস্বাস্থ্যের সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই।
previous post
