সংবাদ কলকাতা: বিরোধী দলনেতা বাছাই নিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা চলার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। তার পরেই নড়েচড়ে বসল বিধানসভার সচিবালয়। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তাঁর শিবিরের ১০ বিধায়ককে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার এই নোটিসে সই করেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু। বিধানসভা সূত্রে খবর, নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য বিধায়কদের এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে।
নোটিস পাওয়া ১০ বিধায়কের মধ্যে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান আনসারি, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান এবং রথীন ঘোষ। বিধানসভা সচিবালয়ের এই পদক্ষেপের ফলে ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগোল।
বর্তমানে স্পিকার রথীন্দ্র বসু দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে রয়েছেন। বিধানসভা সূত্রের দাবি, বিদেশ সফরে যাওয়ার আগেই তিনি ওই নোটিসে সই করে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবারই নোটিসগুলি বিধায়কদের কাছে পৌঁছয়।

বিরোধী দলনেতা পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূলের ঘোষিত বিরোধী দলনেতা পদপ্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। ১৮ অগাস্টের রায়ে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ওই মামলার শুনানি হয়েছে।
এই আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব। ঋতব্রত-সহ তাঁর শিবিরের ১০ বিধায়কের বিধায়ক পদ দলত্যাগ-বিরোধী আইনে খারিজ করার আবেদন জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতে। পাশাপাশি দ্রুত শুনানির আবেদনও করা হয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনও ওই আবেদনের শুনানির দিনক্ষণ জানায়নি।
এর পরেই বিধানসভা সচিবালয় থেকে ১০ বিধায়ককে নোটিস দেওয়া হল। তাঁদের প্রত্যেককে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিধানসভা সূত্রে খবর, নোটিসের জবাব পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র ঋজু দত্ত অবশ্য বিষয়টিকে রুটিন প্রক্রিয়া বলেই দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে যে আবেদন করেছেন, সেটি এখনও গ্রহণ করা হয়নি। সেই পরিস্থিতিতে বিধানসভার নিয়ম মেনেই স্পিকার ১০ বিধায়কের জবাব চেয়েছেন।
বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়ে এই টানাপড়েনের সূত্রপাত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর। স্পিকার রথীন্দ্র বসু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শোভনদেব কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেন। হাই কোর্টের নথি অনুযায়ী, তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন করেছিলেন বলে স্পিকারের তরফে আদালতে জানানো হয়েছিল।
এখন সেই বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত বিতর্কই হাই কোর্টের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট এবং বিধানসভার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় গড়িয়েছে। একদিকে শোভনদেবের আবেদন, অন্য দিকে স্পিকারের নোটিস—এই দুই পদক্ষেপে তৃণমূলের দুই শিবিরের সংঘাত আরও আইনি পরিসরে ঢুকে পড়ল।
