সংবাদ কলকাতা: বিশ্বকর্মা পুজোর মুখে বেসরকারি সংস্থার কর্মী ও শ্রমিকদের জন্য বড় সুখবর। এমপ্লোয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফের আওতায় আসার ক্ষেত্রে আয়ের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। এতদিন মাসে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা আয়ের কর্মীরা এই সীমার মধ্যে ছিলেন। এ বার সেই সীমা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রায় ১২ বছর পর ইপিএফে আয়ের সর্বোচ্চ সীমায় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র।
বেসরকারি সংস্থার কর্মী ও শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য দেশে চালু রয়েছে এমপ্লোয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন এমপ্লোয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজ়েশন বা ইপিএফও এই প্রকল্প পরিচালনা করে। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইপিএফের ক্ষেত্রে আয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, আয়ের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর ফলে আরও ৫১ লক্ষ কর্মী ও শ্রমিককে বাধ্যতামূলক ভাবে প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে তাঁদের সামাজিক সুরক্ষার পরিধি আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।

কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েক বছরে কর্মীদের মজুরি ও বেতন উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ফলে বর্তমানে ইপিএফে আয়ের যে সর্বোচ্চ সীমা রয়েছে, তা সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই কারণেই ১৫ হাজার টাকার সীমা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইপিএফ খাতে বর্তমানে সরকারের বার্ষিক খরচ প্রায় ১০,২৫০ কোটি টাকা। নতুন সীমা কার্যকর হলে সেই খরচ বেড়ে প্রায় ১১,৩৩৯ কোটি টাকা হতে পারে। কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরে এই খাতে সরকারের অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ প্রায় ৫৬,৬৯৬ কোটি টাকা হতে পারে।
ইপিএফও শুধু প্রভিডেন্ট ফান্ডই নয়, বেসরকারি সংস্থার কর্মী ও শ্রমিকদের জন্য পেনশন এবং কর্মচারী আমানত সংযুক্ত বিমা প্রকল্পও পরিচালনা করে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ইপিএফের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭.৯৮ কোটি। পাশাপাশি পেনশন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন আরও প্রায় ৮২ লক্ষ কর্মী ও শ্রমিক।
