September 16, 2026
Uncategorized

ইন্দপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিধায়কের হানা

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া—বাঁকুড়ার ইন্দপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুললেন ছাতনার বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। হাসপাতালের ওষুধের তাকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ, রোগীদের খাবারের মশলায় পোকামাকড় এবং ওয়ার্ডে সংক্রামক রোগীদের একসঙ্গে রাখার মতো বিষয় তাঁর নজরে আসে বলে দাবি বিধায়কের। বেড না পেয়ে কয়েক জন রোগী মেঝেতেও রয়েছেন বলে অভিযোগ।

ইন্দপুর ছাড়াও তালডাংরা, ছাতনা, বাঁকুড়া ১ নম্বর এবং খাতড়া ব্লকের একাংশের মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগ থাকলেও পরিস্থিতির বদল হয়নি বলে দাবি। মঙ্গলবার বিকেলে বিডিওকে সঙ্গে নিয়ে আচমকা হাসপাতালে গিয়ে বিভিন্ন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন সত্যনারায়ণ।

হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের খাবারে ব্যবহৃত মশলার কৌটায় পোকামাকড় দেখতে পান বলে দাবি বিধায়কের। এরপর ওষুধ রাখার জায়গা পরিদর্শন করে সঠিক ওষুধের পাশাপাশি প্রচুর মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধও দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হাসপাতালের ওয়ার্ড ঘুরে আরও কিছু অনিয়ম চোখে পড়ে বলে দাবি বিধায়কের। তাঁর অভিযোগ, কয়েক জন ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে মশারি ছাড়াই বেডে রাখা হয়েছে। আবার বেডের অভাবে কয়েক জন রোগী মেঝেতে শুয়ে রয়েছেন।


হাসপাতালের একাংশের অস্থায়ী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগও জানতে পারেন বিধায়ক। এরপর হাসপাতালের কর্মী ও আধিকারিকদের ভর্ৎসনা করার পাশাপাশি বিষয়টি বাঁকুড়ার জেলাশাসক এবং জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানান তিনি।

সত্যনারায়ণ বলেন, ‘তৃণমূল আমল থেকেই হাসপাতালটির এমন পরিস্থিতি। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ও পোকা ধরা মশলার খাবার খেয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা কোনও রোগী নতুন করে অসুস্থ হয়ে পড়লে বা মারা গেলে তার দায় গিয়ে পড়বে রাজ্য সরকারের উপর।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে বরখাস্ত করার পাশাপাশি তাঁর কঠোর শাস্তির জন্য আগামী দিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানাব।’

তবে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাঁকুড়া স্বাস্থ্য জেলার উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সজল বিশ্বাস বলেন, ‘হাসপাতালে বেড-সহ অন্যান্য পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। সংক্রামক রোগীদের আলাদা করে রাখার মতো পরিকাঠামো নেই। অন্যান্য অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’

Related posts

Leave a Comment