September 16, 2026
রাজ্য

চিনির দামে লাগাম, পাইকারি দর ৫০ টাকা

সংবাদ কলকাতা: উৎসবের মরশুমে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। পাইকারি বাজারে চিনির সর্বোচ্চ দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিপণন দপ্তরের আশা, আগামী সাত দিনের মধ্যেই খুচরো বাজারে চিনির দাম ৫৩ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে নেমে আসবে। পুজোর আগেই সুফল বাংলা স্টলেও চিনি বিক্রি করা হবে।

গত কয়েক মাসে লাগাতার বেড়েছে চিনির দাম। একসময় কেজি প্রতি ৭০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায় দর। তার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। একইসঙ্গে বেড়েছে মিষ্টির দামও। এই পরিস্থিতিতে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে সরাসরি নজরদারি শুরু করেছে কৃষি বিপণন দপ্তর।

মঙ্গলবার কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, গত এক মাস ধরে দেশ ও রাজ্যে চিনির দাম বাড়ছিল। সেই কারণে পোস্তা বাজার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করে পাইকারি বাজারে সর্বোচ্চ দাম ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, খুচরো বাজারে আরও দু-তিন টাকা যোগ হলেও আগামী অন্তত তিন মাস, অর্থাৎ পুজো ও উৎসবের মরশুমে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে চিনির দাম বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি আধিকারিকরা ৩, ৫ এবং ১১ সেপ্টেম্বর তিন দফায় পোস্তা বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাজারে চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অযথা দাম বৃদ্ধি আটকানোই ছিল বৈঠকের মূল লক্ষ্য। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী অন্তত তিন মাস সরকারের নির্ধারিত পাইকারি দাম অপরিবর্তিত রাখা হবে।


ব্যবসায়ীদের জন্য লজিস্টিক সহায়তাও দেবে রাজ্য। ডানকুনি রেক পয়েন্ট থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সরকারি রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির গোডাউনে চিনি খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরে সেই চিনি সুফল বাংলা স্টল এবং রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

কৃষি বিপণন দপ্তরের দাবি, আগামী সাত দিনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্তের সুফল সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করবেন। সরকারি আধিকারিকরা নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করে পাইকারি ও খুচরো দাম নজরে রাখবেন। কোথাও কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিনির পাশাপাশি পিঁয়াজের দাম নিয়েও চিন্তায় রাজ্য। মঙ্গলবার খুচরো বাজারে পিঁয়াজের দাম ছিল কেজি প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। দাম নিয়ন্ত্রণে এবার রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত নজরদারি চালাবে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য রাজ্যে পিঁয়াজ সংরক্ষণে ১০টি কোল্ড স্টোরেজ তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment