September 16, 2026
খেলা

এশিয়ায় কঠিন পরীক্ষা, জর্ডানের তিন বারের চ্যাম্পিয়নের সামনে ইস্টবেঙ্গল

আম্মান, জর্ডন—ঘরোয়া ফুটবলে একের পর এক সাফল্যের পর এ বার নজর এশিয়ার মঞ্চে। জর্ডানের আল-হুসেইন এসসির বিরুদ্ধে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বে অভিযান শুরু করতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল। বুধবার রাতে আম্মান ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল।

গত এক বছরে লাল-হলুদ শিবিরের ছন্দ যে বেশ ভাল, তা পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। ২০২৫-২৬ মরসুমে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সদ্য শেষ হওয়া ডুরান্ড কাপও জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত নির্ধারিত ৯০ মিনিটের হিসাবে মাত্র তিনটি ম্যাচে হেরেছে লাল-হলুদ।

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পথও দাপটের সঙ্গে শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল। গত মাসে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রাথমিক পর্বের ম্যাচে কুয়েতের আল আরাবি এসসিকে ৪-১ গোলে হারায় তারা। জয় গুপ্ত, মহম্মদ রশিদ, ডেভিড লালনসাঙ্গা এবং রোহিত দানুর গোলে এসেছিল সেই জয়।

তবে এ বার প্রতিপক্ষ আরও কঠিন। আল-হুসেইন জর্ডানের প্রো লিগের গত তিন বারের চ্যাম্পিয়ন। গত মরসুমে জর্ডান এফএ কাপও জিতেছে তারা। যদিও চলতি মরসুমে এখনও নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায়নি দলটি। শেষ পাঁচটি ম্যাচে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে আল-হুসেইন। তাদের দলে রয়েছেন বিশ্বকাপে খেলা জাতীয় দলের পাঁচ ফুটবলার।

তবে প্রতিপক্ষের ফুটবলার বা সাম্প্রতিক ফল নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাস। ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বে খেলতে এসে আমরা রোমাঞ্চিত। এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার এটা একটা বিশেষ সুযোগ। জেতার মানসিকতাই আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি করতে চাই। গত দু’মাসে যে জয়ের ধারাবাহিকতা আমরা তৈরি করেছি, সেটা বজায় রাখতে চাই। আগামীকালের ম্যাচেও আল-হুসেইনের বিরুদ্ধে সেই সাফল্যই পুনরাবৃত্তি করতে চাই।’


ইস্টবেঙ্গল অধিনায়ক মহম্মদ রশিদের গলাতেও আত্মবিশ্বাস। তবে প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। রশিদ বলেন, ‘এই ম্যাচ সহজ হবে না। কারণ, এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলতে হবে, যাদের গত দুই-তিন বছর ধরে মহাদেশীয় পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে আমরা একে অপরের উপর এবং নিজেদের দক্ষতার উপর বিশ্বাস রাখি। ভাল পারফরম্যান্স করার ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’

এর পরেই তাঁর বার্তা, ‘ফুটবল ১১ জনের খেলা। আমরা এই প্রতিযোগিতায় খেলছি, কারণ এখানে থাকার যোগ্যতা আমরা অর্জন করেছি। এ বার নিজেদের আরও বেশি করে উজাড় করে দিতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে এই পর্যায়েও ইস্টবেঙ্গল ভাল করতে পারে।’

আল-হুসেইনের বিরুদ্ধে এর আগে কখনও খেলেনি ইস্টবেঙ্গল। তবে জর্ডানের দুই ক্লাবের বিরুদ্ধে অতীতে খেলেছে লাল-হলুদ। ২০০৫ সালে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে আল ফয়সালির বিরুদ্ধে এবং ২০০৮ সালে আল ওয়াহদাতের বিরুদ্ধে খেলেছিল তারা।


জর্ডানের মাটিতে আল ওয়াহদাতের বিরুদ্ধেই এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র জয়। ২০০৮ সালে ২-০ গোলে জিতেছিল অলোক মুখোপাধ্যায়ের দল। গোল করেছিলেন আলভিটো ডি’কুনহা এবং ইকেচুকু। সেই জয়ের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দলের বিরুদ্ধে এএফসি প্রতিযোগিতায় জেতা প্রথম ভারতীয় ক্লাবের নজির গড়েছিল ইস্টবেঙ্গল।

এ বার ইতিহাসের সেই পাতায় আরও একটি অধ্যায় যোগ করার পালা। ঘরোয়া সাফল্যের পর এশিয়ার মঞ্চে হাবাসের ইস্টবেঙ্গল কতটা এগোতে পারে, আম্মানেই শুরু সেই পরীক্ষা।

ম্যাচ দেখুন: আজ রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ফ্যানকোড অ্যাপে সরাসরি।

Related posts

Leave a Comment