নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করছে কাঠমান্ডু। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বিধ্বস্ত নেপালকে পুনর্গঠন করতে অন্তত ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ুজনিত বিপর্যয় মোকাবিলার বিশেষ তহবিল থেকে জরুরি আর্থিক সাহায্য চেয়েছে নেপাল।
হড়পা বানের ছ’দিন পরেও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯৩৯ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ১১,৩৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৩,৯২৫ জনের কোনও সন্ধান মেলেনি। ভারতও জানিয়েছে, সোমবার রাত পর্যন্ত ১৫৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের পরিবেশ মন্ত্রকের অধীন জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের প্রধান মহেশ্বর ধাকাল এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক দশকে ধনী দেশগুলির বিপুল গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রভাব নেপালের মতো দুর্বল দেশগুলিকে সবচেয়ে বেশি ভোগ করতে হচ্ছে।
২০২৩ সালে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ তহবিল গঠনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ঐকমত্য তৈরি হলেও, প্রয়োজনের তুলনায় তহবিলে অর্থের পরিমাণ এখনও অনেক কম। বিভিন্ন দেশ থেকে ৮২ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি মিললেও ইতিমধ্যে প্রায় ১১৯টি দেশ থেকে মোট ২৮০ কোটি ডলারের সাহায্যের আবেদন এসেছে।
নেপালের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের ওই তহবিল থেকে প্রায় ২ কোটি ডলার দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তহবিলের বোর্ডের প্রাক্তন সহ-সভাপতি রিচার্ড শেরম্যান। তবে নেপালের প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থ যে অত্যন্ত কম, সেটিও স্বীকার করেছেন তিনি।
