নিজস্ব সংবাদদাতা — ২০২৬ সালের ফলতা উপনির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের প্রসঙ্গ তুলে নন্দীগ্রামেও আরও বেশি ব্যবধানে দলকে জেতানোর আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নন্দীগ্রামের উন্নয়নকে সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হবে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। পরবর্তী নির্বাচনে সেই ব্যবধান আরও বেড়ে সাড়ে ৯ হাজারের বেশি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে নন্দীগ্রাম থেকেই ৮১ হাজারের বেশি ভোটে জয় পেয়েছিলেন তিনি। সেই পুরনো ফলের কথা স্মরণ করিয়ে এ বার আরও বড় ব্যবধানে বিজেপিকে জেতানোর আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।

নন্দীগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘নন্দীগ্রাম ভাল থাকলে আমি ভাল থাকব।’’ তাঁর দাবি, আগামী দিনে এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নয়নে নন্দীগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
রেল যোগাযোগ নিয়েও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে রেলস্টেশন তৈরির জন্য মাত্র ছয় একর জমি প্রয়োজন হলেও আগের সরকার সেই জমি রেলকে দেয়নি। বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে সাড়ে তিন একর জমি হস্তান্তর করেছে এবং বাকি জমির কাজ আগামী মার্চের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। নন্দীগ্রাম-বটতলা রেলস্টেশন থেকে বাজকুল পর্যন্ত রেল পরিষেবা চালুর আশাও প্রকাশ করেন তিনি। প্রথম ট্রেনে নিজে যাত্রা করার ইচ্ছার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
নন্দীগ্রামে সরকারি বাস পরিষেবা আরও সহজ করতে বাসস্ট্যান্ড তৈরির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি গত সাড়ে তিন মাসে এলাকায় ৩২টি নতুন রাস্তা নির্মাণ ও রাস্তা সংস্কারের কাজ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত নন্দীগ্রামের হরিপুরে নতুন দমকল কেন্দ্রও চালু করা হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্নপূর্ণা যোজনায় নন্দীগ্রামের ৬৭ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আরও সাত হাজার মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন বলে জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও পরিকাঠামো বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেয়াপাড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যা সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার আরও উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে আগের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০২১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর নন্দীগ্রামের উন্নয়ন থমকে গিয়েছিল। শহিদ পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগের সরকার ন’টি শহিদ পরিবারকে চাকরি দেয়নি। তাঁর সরকার ক্ষমতায় এসে ওই পরিবারগুলির সদস্যদের চাকরি দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক লড়াই আরও জোরদার করার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলতায় বিজেপির বড় জয়ের উল্লেখ করে নন্দীগ্রামে তার থেকেও বেশি ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করার জন্য কর্মী-সমর্থকদের আহ্বান জানান তিনি।
