নিজস্ব সংবাদদাতা — নন্দীগ্রামের পরিকাঠামো ও জনপরিষেবা উন্নয়নে একাধিক বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নন্দীগ্রামের ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৩২টি নতুন রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, হরিপুরে নতুন ফায়ার স্টেশন, স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে দেওয়ার কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে ৩২টি রাস্তার কাজের পাশাপাশি হরিপুরে নতুন দমকল কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর ফলে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামকে আর কাঁথি বা তমলুকের উপর নির্ভর করতে হবে না। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত হলদিয়া-নন্দীগ্রাম সেতু নিয়েও অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। মাটি পরীক্ষা, প্রকল্পের হিসাব এবং বাজেট বরাদ্দের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেতুর ভূমিপুজোয় নিজে উপস্থিত থাকার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। জব কার্ডধারীদের বছরে ১২৫ দিন কাজের সুযোগ এবং প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে বছরে ৩৪,৫০০ টাকা পৌঁছনোর কথা বলা হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির অ্যাকাউন্টে রিভলভিং ফান্ড হিসেবে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
আবাস যোজনায় আগে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাওয়া ৭৩০০ জনের অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির আরও ৬০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ১১,৭০০টি নতুন বাড়ির জন্য প্রথম কিস্তির অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনায় অগস্ট মাসে নন্দীগ্রামের ৬৭ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আরও ৫ হাজার উপভোক্তার নাম যাচাই করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবাতেও একাধিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রেয়াপাড়া রুরাল হেলথ সেন্টারে শয্যা সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করা হয়েছে। আমদাবাদ ও বয়াল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। মহেশপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি চিকিৎসকদের থাকার জন্য কোয়ার্টার তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।
নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে ‘মাতৃ মা’ ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। সেখানে রোগীদের পরিজনদের জন্য নাইট শেল্টারের ব্যবস্থা থাকবে। শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র চালুর পাশাপাশি মাত্র ৫ টাকায় খাবারের জন্য ‘মা’ ক্যানটিনও চালু করা হয়েছে। দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের জন্য আর তমলুকে যেতে হবে না। নন্দীগ্রামেই পুলিশ মর্গ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও সুবিধা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড এবং আরও ৮৭ হাজার মানুষকে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার কার্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি দেশের একাধিক বড় হাসপাতালেও এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যও সর্বভারতীয় স্তরে সুরক্ষার ব্যবস্থা করার কথা তুলে ধরা হয়েছে। নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক সমর্থনের হিসাব না করে যোগ্য প্রত্যেক মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের লক্ষ্য।
