30 C
Kolkata
August 31, 2026
দেশ

নেপালে মৃত বেড়ে ৭৮১, নিখোঁজ ২৫০২ জন

ত্রিশূলীর সুড়ঙ্গে নিখোঁজ শত শত শ্রমিক

রবিবার বিকেল পর্যন্ত নেপালের বিপর্যস্ত এলাকাগুলি থেকে মোট ৭৮১ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২৫০২ জন। জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে সেনা ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলগুলির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেপালের ত্রিশূলী নদীর উপর থাকা একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে হড়পা বানের পর থেকে আটকে রয়েছেন শত শত শ্রমিক। রাসুয়া এবং নুয়াকোট জেলার ন’টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটি এখনও নির্মীয়মাণ। প্রবল বন্যার জেরে কাদা ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে যায় প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গমুখ। সেখানে প্রায় ৯০০ শ্রমিক আটকে পড়েছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে তিনশোর কিছু বেশি শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও অন্তত ৫৩৭ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। চার দিন পেরিয়ে গেলেও কোন সুড়ঙ্গে কত জন আটকে রয়েছেন, তার সঠিক হিসাব এখনও মেলেনি। সময় যত গড়াচ্ছে, আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা নিয়ে ততই উদ্বেগ বাড়ছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের দফতর জানিয়েছে, সুড়ঙ্গের উপরিভাগে ড্রিল করে একটি প্রবেশপথ তৈরি করা হয়েছে। সেই পথ দিয়ে উদ্ধারকারীরা ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাঁরা ভিতরে ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। এখন সুড়ঙ্গমুখ আরও প্রশস্ত করার চেষ্টা চলছে।

রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়।

নুয়াকোটের আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পেও বহু শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিপর্যয়ের পর কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের স্তূপে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নেপাল সেনার অনুমান, সেখানে অন্তত ৩৫ জন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন। পুলিশের হিসাব অবশ্য আরও বেশি—সংখ্যাটি প্রায় ২০০ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ড্রিল মেশিন, মাটি কাটার যন্ত্র এবং হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করে রবিবার বিকেলে উদ্ধারকারীরা অবশেষে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুঁজে পান। ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালানো হলেও কোনও শ্রমিকের সাড়া পাওয়া যায়নি। কাদা ও ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ এতটাই বেশি যে কোনও কোনও এলাকায় থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করেও আটকে থাকা মানুষজনের অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

নেপাল সেনার মুখপাত্র রাজারাম বাসনেট জানিয়েছেন, একটি জায়গায় ড্রিল করে প্রায় সাত মিটার ব্যাসের একটি সুড়ঙ্গের সন্ধান মিলেছে। তবে ওই সুড়ঙ্গের ভিতরে জল অনেকটা উপর পর্যন্ত উঠে রয়েছে। ফলে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

Related posts

Leave a Comment