অনুদানপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া মেটাতেও তৎপর রাজ্য
সংবাদ কলকাতা: পুজোর আগেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বর্ধিত হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর এ বার সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর প্রস্তুতিও জোরকদমে শুরু করল রাজ্য সরকার। অর্থ দপ্তর সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত স্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত, পুরসভা, পুর নিগম, বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি বেতন না পেলেও সরকারি অনুদানের মাধ্যমে যাঁরা বেতন পান, তাঁদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোই এখন অর্থ দপ্তরের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানা গিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন সরকার পোষিত ও অনুমোদিত বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত কর্মী, পুরসভা ও পুর নিগমের কর্মী, বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।

অর্থ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বকেয়া অর্থ পরিশোধের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের বেতন সংক্রান্ত পোর্টালে বকেয়া বিল জমা দেওয়ার জন্য পৃথক ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত পোর্টালেও একই ধরনের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হওয়ার পর কোন পদ্ধতিতে এবং কবে থেকে বকেয়ার বিল গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে পৃথক নির্দেশিকা জারি করবে অর্থ দপ্তর। আপাতত তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মীদের অন্য কোনও আর্থিক বকেয়ার বিল গ্রহণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পরিশোধের কাজ দ্রুত ও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা।
এরই মধ্যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১ অক্টোবর থেকে পূর্ণ সময়ের কর্মীরা সংশোধিত মূল বেতনের ৩৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন। এই সুবিধা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, পুর নিগম, বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও একই দিন থেকে বর্ধিত মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেকের প্রাপ্য অর্থের হিসাব করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও, পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় থাকা কর্মীদের মহার্ঘ ভাতার হার ১৭১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২২৩ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারি দিনমজুরদের দৈনিক মজুরিতেও ১১০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আগামী ১ অক্টোবর থেকেই কার্যকর হবে।
সরকারের বক্তব্য, প্রথম বাজেটেই ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল। আগের হারের সঙ্গে মিলিয়ে বর্তমানে মোট মহার্ঘ ভাতা ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রথমে নভেম্বর থেকে এই সুবিধা কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও পরে পুজোর আগেই তা কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর অনুদানপ্রাপ্ত কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যেও প্রত্যাশা বেড়েছে। তাঁদের আশা, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শেষ হলেই ধাপে ধাপে দীর্ঘদিনের বকেয়া পরিশোধ শুরু হবে।
