May 15, 2026
রাজ্য

প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার থেকে উদ্ধার ২৩টি মোবাইল, সুপার-সহ দুই আধিকারিক সাসপেন্ড

কলকাতা — প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের ভিতর থেকে ২৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলি প্রকাশ্যে দেখান। একই সঙ্গে সংশোধনাগারের সুপার এন কুজুর এবং চিফ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘড়াইকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সংশোধনাগারের কিছু কর্মী, অপরাধচক্র এবং একাংশ রাজনৈতিক নেতার মধ্যে গভীর যোগসাজশ তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, বহু বছর ধরেই জেলের ভিতর থেকে অপরাধচক্র চালানো হচ্ছিল।

শুভেন্দু বলেন, ‘বাংলার জেল থেকে অপরাধীরা বাইরে বসে থাকা চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ চালাচ্ছে। এই দুর্নীতি নীচুতলা থেকে উপরতলা পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। আমরা কোনও ভাবেই জেলকে অপরাধচক্র চালানোর কেন্দ্র হতে দেব না।’

তিনি আরও বলেন, সন্দেশখালির শেখ শাহজাহানের মতো অভিযুক্তদেরও জেলের ভিতর থেকে নেটওয়ার্ক চালাতে দেওয়া হবে না। উল্লেখ্য, গণবণ্টন দুর্নীতি মামলায় ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান দীর্ঘ দিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হন। তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল, মহিলাদের উপর অত্যাচার-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে তল্লাশি চালায় ১০টি পুলিশ দল। অভিযোগ ছিল, বন্দিরা স্মার্টফোন ব্যবহার করে বাইরে থাকা অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। কলকাতা পুলিশ এবং সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ যৌথ ভাবে এই অভিযান চালায়। উপস্থিত ছিলেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকেরাও।

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, দমদম এবং বহরমপুরের মতো আরও কয়েকটি সংশোধনাগারেও একই ধরনের বেআইনি কাজ চলছিল।

ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কারা মোবাইল সরবরাহ করেছে, সিম কার্ড কার নামে নেওয়া হয়েছিল এবং সংশোধনাগারের কোনও কর্মী সরাসরি যুক্ত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তদন্তকারীরা উদ্ধার হওয়া ফোনের কল রেকর্ডও খতিয়ে দেখবেন। কোন কোন ব্যক্তি বন্দিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, সেই বিষয়েও তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

Related posts

Leave a Comment