আবু ধাবি — সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বিস্তৃত বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার আবু ধাবিতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পাঁচ দেশের সফরের প্রথম পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পৌঁছেছেন মোদী। স্বল্প সময়ের এই সফরেই ভারত-ইউএই সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা স্পষ্ট হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের মত।
বৈঠকের পরে দুই দেশের উপস্থিতিতে কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের কাঠামোগত চুক্তি, কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত সংক্রান্ত সমঝোতা, এলপিজি সরবরাহ চুক্তি এবং গুজরাতের ভাদিনারে জাহাজ মেরামতি কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রকল্পে সই হয়। পাশাপাশি ভারতের পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণাও করেছে ইউএই। রিবিএল ব্যাঙ্ক এবং সম্মান ক্যাপিটালেও বিনিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে বলেন, ‘ফোনে নিয়মিত কথা হলেও ব্যক্তিগত ভাবে আপনার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা ছিল।’
দুই দেশের আলোচনায় বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি, সংস্কৃতি এবং জনসংযোগ আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের আলোচনা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এলপিজি সরবরাহ এবং কৌশলগত তেল মজুত নিয়ে নতুন চুক্তিকে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ইউএই বর্তমানে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। গত ২৫ বছরে ভারতের অন্যতম বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।
এই বৈঠকে ভারতীয় প্রবাসীদের ভূমিকাও বিশেষ ভাবে উঠে আসে। বর্তমানে প্রায় ৪৫ লক্ষ ভারতীয় ইউএইতে বসবাস এবং কাজ করছেন। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায় রয়েছে এই দেশে।
এর আগে আবু ধাবিতে পৌঁছনোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। ইউএইর আকাশসীমায় প্রবেশের সময় তাঁর বিমানের নিরাপত্তায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমানও মোতায়েন করা হয়েছিল।
